মনের খেয়াল
হেরে গেলে দল

ফাইল ছবি
বিশ্বকাপে প্রিয় দলের পরাজয়ে অনেকেই মুষড়ে পড়েন। এ মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় জানাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম
রাতভর খেলা দেখা। জার্সি পরে টেলিভিশনের সামনে বসা। প্রতিটি আক্রমণে বুক ধড়ফড় করা। গোল হলে উচ্ছ্বাসে চিৎকার। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই সবকিছু যেন বদলে গেল। প্রিয় দলটি টুর্নামেন্ট থেকে নিল বিদায়। টেলিভিশন বন্ধ হয়ে গেল, কিন্তু মনটা আর স্বাভাবিক হলো না। কারও খেতে ইচ্ছা করছে না, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঁকি দিতে ভয় পাচ্ছেন ট্রলের ভয়ে; আবার কেউ বলছেন, ‘এবার আর খেলা দেখব না।’
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাউন্সেলিং ইউনিটের সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর এবং লেকচারার অ্যানি অ্যান্তোনিয়া বাড়ৈর মতে, প্রিয় দলের বিদায়ের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেটি আবেগের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে এই মন খারাপ যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়। প্রথমেই নিজেকে সময় দিতে হবে। ‘এ তো শুধু খেলা’— এমন সান্ত্বনায় অনুভূতিকে চাপা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মেনে নেওয়া ভালো, হার আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। এ স্বীকারোক্তিই ধীরে ধীরে মনকে হালকা করে।
ম্যাচের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্কে জড়ানো কিংবা ট্রলের জবাব দেওয়ার চেষ্টা অনেক সময় কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তার চেয়ে বরং ম্যাচের সুন্দর মুহূর্ত, ভালো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলুন। এতে হতাশার বদলে খেলার আনন্দটুকু ফিরে আসবে। প্রিয় দল বাদ পড়েছে মানেই টুর্নামেন্ট শেষ নয়। নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে বাকি ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারেন। কেননা চাপমুক্ত হয়ে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা।
প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। তার বদলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া কিংবা কোনো শখের কাজে মন দেওয়া অনেক বেশি ইতিবাচক ফল দেয়।
খেয়াল রাখবেন, খেলোয়াড়রাও হারেন। তারা কয়েক দিন বিশ্রাম নিয়ে আবার নতুন লক্ষ্য ঠিক করেন। একজন সমর্থকেরও তাই করা ভালো। খেলার অন্যতম সৌন্দর্য হলো, প্রতিটি বিদায়ের পর নতুন মৌসুম, নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলা।
ইতিবাচক চিন্তা ও চর্চার পরও মন ভালো না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।




