যত্ন আত্তি
স্ক্যাল্প ভালো তো চুলও ভালো

মডেল: স্বর্ণা, ছবি: মঞ্জু আলম
ঘন, উজ্জ্বল আর স্বাস্থ্যবান চুলের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই; কিন্তু মাথার ত্বকের কথা প্রায়ই ভুলে যান। রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহার পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া আলম
চুলের যত্ন বলতে আমরা সাধারণত শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার মাস্ক কিংবা সিরামের কথাই ভাবি। অথচ স্ক্যাল্প সুস্থ না থাকলে চুলও নিষ্প্রাণ, রুক্ষ কিংবা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মাথার ত্বকে থাকে চুলের ফলিকল বা গোড়া। এখান থেকেই চুল জন্মায় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেল, ময়লা, ঘাম কিংবা মৃত কোষ জমে গেলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে চুল ঝরা, পাতলা হওয়া, খুশকি জন্মানো কিংবা চুলের উজ্জ্বলতা কমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, আবার কারও মাথার ত্বক এতটাই শুষ্ক থাকে, যার ফলে চুলকানি ও খসখসে ভাব তৈরি হয়। ঘাম, দূষণ এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে স্ক্যাল্পে প্রদাহ বা ছোট ছোট ব্রণও হতে পারে।
মাথার ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও তৈলাক্ত, কারও শুষ্ক, আবার কারও সংবেদনশীল। তাই অন্যের পরামর্শে পণ্য ব্যবহার না করে নিজের স্ক্যাল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও পরিচর্যার সামগ্রী বেছে নেওয়া শ্রেয়। স্ক্যাল্প ভালো রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করার পাশাপাশি ঘাম, ধুলা ও অতিরিক্ত তেল দীর্ঘ সময় মাথার ত্বকে জমতে দেওয়া যাবে না। আবার অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারও ভালো নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে। শ্যাম্পু করার সময় অনেকেই নখ দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষেন। এতে স্ক্যাল্পে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। তাই আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করাই ভালো।
চুলে অতিরিক্ত তেল দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া সবসময় উপকারী নয়। এতে ধুলা ও ময়লা আরও বেশি আটকে যেতে পারে
চুলে অতিরিক্ত তেল দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া সবসময় উপকারী নয়। এতে ধুলা ও ময়লা আরও বেশি আটকে যেতে পারে। একইভাবে জেল, স্প্রে বা স্টাইলিং পণ্য ব্যবহারের পর সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। চিরুনিও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। কারণ এগুলোতে জমে থাকা তেল, ধুলা ও মৃত কোষ আবারও মাথার ত্বকেই ফিরে আসে।
গরমে কিংবা দীর্ঘ সময় রোদে থাকলেও স্ক্যাল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে ছাতা, ওড়না বা টুপি ব্যবহার করা ভালো। আবার ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখা কিংবা তা নিয়ে ঘুমানোও উচিত নয়। এতে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যারা নিয়মিত হিজাব বা হেলমেট ব্যবহার করেন, তাদেরও চুল শুকিয়ে তারপর মাথা ঢাকার অভ্যাস করা প্রয়োজন। শক্ত করে খেঁাপা, বেণি বা পনিটেইল বাঁধার অভ্যাসও চুলের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়লে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই কিছুটা ঢিলেঢালা স্টাইল বেছে নেওয়া মঙ্গল।
শুধু প্রসাধনী নয়, খাদ্যাভ্যাসও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ চুল ও মাথার ত্বকের সুস্থতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।




