অফিসের বাইরে পুরুষের স্টাইল

মডেল: রিজানুল ইসলাম রিজন; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
অফিসের পোশাকে থাকে নিয়মের ছাপ আর বাইরের সাজে ফুটে ওঠে ব্যক্তিমানুষের নিজস্বতা। ফ্যাশনে পুরুষের অবসরের পারিপাট্য নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া আলম
অফিসের পোশাকে যেখানে নিয়মের বাঁধন, ছুটির দিনে সেখানে পোশাক হয়ে ওঠে নিজের মতো করে থাকার ফুরসত। কাজের সময়ের শার্ট-প্যান্ট, পালিশ করা জুতা আর পরিপাটি আনুষ্ঠানিকতার বাইরে পুরুষের সাজেও থাকে অনেকটা অবকাশ। কখনো সাদা টি-শার্টে নির্ভার, কখনো ঢিলেঢালা শার্টে শহুরে, আবার কখনো পাঞ্জাবিতে ফিরে আসে চেনা বাঙালিয়ানা।
অবসরের প্রথম পছন্দ
অফিসের বাইরে সবচেয়ে সহজ ভরসা টি-শার্ট। তবে সাধারণ গোলগলা টি-শার্টের পাশাপাশি এখন দেখা যাচ্ছে পোলো, কলার টি-শার্ট কিংবা একটু ভারী কাপড়ের ঢিলেঢালা টি-শার্ট। সাদা, কালো, ধূসর, নেভি কিংবা মাটির কাছাকাছি রঙ সহজেই মানিয়ে যায়। সঙ্গে স্ট্রেইট কাটের জিনস বা আরামদায়ক ট্রাউজার— ব্যস, তৈরি হয়ে গেল অবসরের স্টাইল।
শার্টে একটু আলগা হওয়া
অফিসের আর ছুটির দিনের শার্ট এক নয়। লিনেন, সুতি কিংবা হালকা কাপড়ের শার্টে অবসরের আমেজ সহজেই আসে। একরঙা শার্টের পাশাপাশি সূক্ষ্ম ডোরা, চেক, ছোট নকশা কিংবা প্রকৃতির রঙের প্রিন্টও বেছে নেওয়া সম্ভব। শার্টের বোতাম পুরোটা না এঁটে, ভেতরে সাদা বা কালো টি-শার্ট পরা যেতে পারে। শার্টের হাতা সামান্য গুটিয়ে নিলে স্টাইলে আসে স্বাচ্ছন্দ্য। বিকালের আড্ডা, ক্যাফে কিংবা বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার জন্য এমন পারিপাট্য বেশ মানানসই।
জিনসের বাইরে
জিনস দীর্ঘদিনের সঙ্গী হলেও এখন পুরুষের অবসরের পোশাকে জায়গা করে নিয়েছে নানা ধরনের ট্রাউজার। স্ট্রেইট কাটের সুতি প্যান্ট, ঢিলেঢালা প্যান্ট, কার্গো কিংবা গ্রীষ্মে হালকা কাপড়ের ট্রাউজার— সবই হতে পারে বিকল্প। প্যান্টের রঙ পোশাকের পুরো আবহ বদলে দিতে পারে। খাকি, জলপাই, বেইজ, অফহোয়াইট কিংবা মাটির রঙ একটু কোমল ও পরিণত ভাব আনে। অন্যদিকে কালো বা গাঢ় নীল তৈরি করে তুলনামূলক ধারালো চেহারা।
পাঞ্জাবিতে বাঙালিয়ানা
অফিসের বাইরে পুরুষের পোশাকে পাঞ্জাবির আলাদা জায়গা আছে। উৎসবের দিনেই শুধু নয়; শহরে ঘোরাঘুরি কিংবা সন্ধ্যার নিমন্ত্রণেও হালকা সুতি বা খাদির পাঞ্জাবি পরা যেতে পারে। সাদা, মাটি, ছাই, নীল কিংবা সবুজের মতো কোমল রঙ দৈনন্দিন ব্যবহারে স্বাভাবিক লাগে। পাঞ্জাবির সঙ্গে পায়জামা পরার চেনা রীতির বাইরে স্ট্রেইট কাটের ট্রাউজারও বেছে নেওয়া সম্ভব। পোশাকটি তখন একদিকে থাকে দেশি, অন্যদিকে সমকালীন।
জুতাতেও বদল
অফিসের ফরমাল জুতাকে ছুটির দিনেও বয়ে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই। পোশাক বুঝে বেছে নিতে পারেন সাদা বা নিরপেক্ষ রঙের কেডস, ক্যানভাস জুতা, লোফার কিংবা স্যান্ডেল। টি-শার্ট ও জিনসের সঙ্গে কেডস মানায় ভালো। পাঞ্জাবি বা লিনেনের পোশাকে লোফার কিংবা চামড়ার স্যান্ডেল আনে আভিজাত্য।
রঙে রঙিন
পুরুষের পোশাকে কালো, সাদা, নীল আর ধূসর বাদেও সরিষা, পোড়া কমলা, ইটের লাল, জলপাই, আকাশি কিংবা মৃদু গোলাপি রঙ যোগ করা যেতে পারে। পুরো পোশাকে উজ্জ্বল রঙ না এনে একটি পোশাকে কিংবা অনুষঙ্গে তা ব্যবহার করলেও স্টাইলে পরিবর্তন আসে। যেমন সাদা টি-শার্টের সঙ্গে জলপাই প্যান্ট, নেভি শার্টের সঙ্গে বেইজ ট্রাউজার কিংবা সাদা পাঞ্জাবির সঙ্গে মাটির রঙের স্যান্ডেল— রঙের এই ছোট ছোট সমন্বয়েই তৈরি হতে পারে আলাদা ব্যক্তিত্ব।
অনুষঙ্গে ব্যক্তিত্ব
ঘড়ি, সানগ্লাস, বেল্ট, ব্যাগ কিংবা টুপির মতো ছোট অনুষঙ্গও বদলে দিতে পারে পুরো অবয়ব। খুব বেশি কিছু একসঙ্গে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি-দুটি অনুষঙ্গ বেছে নেওয়াই ভালো। ক্যানভাস বা চামড়ার ব্যাগ, সাধারণ ডায়ালের ঘড়ি কিংবা ক্লাসিক ফ্রেমের সানগ্লাস— এগুলো পোশাকে বাড়তি জাঁকজমক না এনে ব্যক্তিত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।



