শিক্ষক নির্যাতনের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

ছবিঃ আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর একটি ভিডিও। “নব্য স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষকও নিরাপদ নয়”- এমন আবেগঘন ক্যাপশন দিয়ে একটি মারধরের দৃশ্যকে বাংলাদেশে ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
৮ এপ্রিল ‘Mohammad Shahedul Islam Shekder’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পরে ১৪ এপ্রিল ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কমেন্টে দেখা যায়, অনেকেই ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে ভেবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যদিও কেউ কেউ এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
তবে ভিডিওটি খতিয়ে দেখলে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট হয়- কোথাও ঘটনার স্থান, সময় বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র উল্লেখ নেই। সন্দেহের এখান থেকেই শুরু।
যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হলেও দেশের কোনো গণমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর ভিডিওটির কিছু স্থিরচিত্র (কি-ফ্রেম) নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মেলে আসল সূত্র।
ভারতীয় গণমাধ্যম Rajasthan Patrika-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই ভিডিওর দৃশ্য পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বিকানের জেলার একটি সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অসম্পূর্ণ জাতিগত প্রশংসাপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে আক্রমণ করে, এমনকি গরম চায়ের পাত্র নিক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। পরে লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
একই তথ্য পাওয়া যায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Print-এর প্রতিবেদনেও। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান শুরু করেছে এবং আহত শিক্ষক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অর্থাৎ, “বাংলাদেশে শিক্ষককে মারধর” দাবি করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আসলে বাংলাদেশের নয়। এটি ভারতের রাজস্থানের একটি ঘটনা, যা ভুল প্রেক্ষাপটে প্রচার করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

