বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু, অপপ্রচার ‘বারুদ বিস্ফোরণ’ বলে

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ফেসবুক একাউন্টে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয় যে, চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ,বহু হতাহতের শঙ্কা। পোস্টগুলোতে আরও অভিযোগ করা হয়, দেশদ্রোহী বিএনপি জামাতের তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে আনা অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদের জাহাজে বিস্ফোরণ।
তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে এই দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ফুটেজটিতে মূলত বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের পর উদ্ধার অভিযানের চিত্র ধারণ করা হয়েছে, অস্ত্র বা গোলাবারুদ সংক্রান্ত কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
কী দাবি করা হচ্ছে
গত ১৪ আগস্ট বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এবং ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষ কারখানায় মাস্ক পরে দৌড়াদৌড়ি করছে এবং স্বল্প কয়েকজন ফুল ফেস রেসপিরেটর ( গ্যাস মাস্ক ) পরিহিত দেখা যায়।
এর মধ্যে ‘প্রজন্ম একাত্তর ’ নামের একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সব থেকে বেশি শেয়ার করা হয়।এবং ৫১২ বার শেয়ার করা হয়। এবং ১ হাজার ২০০ টি রিয়েকশন পরেছে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ।এবং অন্য যে পেজ এবং আইডি আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে এসেছে সেগুলো ও একই ক্যাপশানে ছড়িয়েছে।
আসলে ঘটনাটি কী
আগামীর সময়ের যাচাইয়ের সময় ফুটেজটিতে ‘মাছরাঙা টেলিভিশন’-এর লোগো দেখতে পায়। এই সম্প্রচারমাধ্যমের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে অনুসন্ধান চালিয়ে ‘শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, আরও হতাহতের আশঙ্কা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্যগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে। একটি পুরানো জাহাজ খণ্ড-বিখণ্ড করার (ডিম্যান্টলিং) সময় এর ভেতর থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা যায়।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে হতাহতের তথ্যে ভিন্নতা ছিল। পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) জানায়, অন্তত আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে সন্দেহভাজন কারণ হিসেবে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনকে চিহ্নিত করা হয়।
গ্যাসের উৎস এবং শিপইয়ার্ডটিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত চালাচ্ছে। কোনো বিশ্বস্ত প্রতিবেদন বা সরকারি বিবৃতিতে বিস্ফোরণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা তুরস্ক বা পাকিস্তান থেকে আসা অবৈধ পণ্যের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অতএব, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটিতে মূলত সন্দেহভাজন বিষাক্ত গ্যাসে ঘটে যাওয়া একটি মারাত্মক কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনার পরবর্তী চিত্র রেকর্ড করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে এই ট্র্যাজেডির সাথে ভিত্তিহীন আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালানের গল্প জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটিকে বেআইনি অস্ত্রের বিস্ফোরণ হিসেবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।









