‘গৌড় গোবিন্দ’কে নিয়ে মন্তব্য করা ব্যক্তি জামায়াতের সংসদ সদস্য নন

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য (এমপি) বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন ‘হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে গৌড় গোবিন্দের মতো পালাবে’—দাবি করে একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটিতে গৌড় গোবিন্দকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর কোনো সংসদ সদস্য নন। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিটি হলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং তিনি কোনো সংসদ সদস্যও নন।
আসল ভিডিওর উৎস অনুসন্ধান
আলোচিত ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালানো হলে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ২৩ জুন প্রচারিত একটি মূল ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর ৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের দৃশ্যের সাথে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবির ফুটেজের হুবহু মিল রয়েছে।
পরবর্তীতে, জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গত ২১ জুন ‘একনজরে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ | ২০ জুন ২০২৬ | ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দান, খুলনা’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই ভিডিওটিতেও লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে একই বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক সভার প্রেক্ষাপট
এই সমাবেশটি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করা হলে মূলধারার গণমাধ্যম ‘সমকাল’-এর ওয়েবসাইটে গত ২০ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে একটি বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করেছিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সেই রাজনৈতিক জোটের সমাবেশেই ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক দল লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ওই বক্তব্যটি দিয়েছিলেন।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি নিশ্চিত যে, ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য নন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে শরিক দল লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের গৌড় গোবিন্দকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘জামায়াতের সংসদ সদস্যের বক্তব্য’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।







