হিন্দু বাড়িতে নয়, হামলার ভিডিও কিশোরগঞ্জে মাদক বাবসায়ীর বাড়িতে

ছবি: আগামীর সময়
প্রকাশ্য দিবালোকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দেশের বর্তমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটির সাথে কোনো হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কর্তৃক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার দৃশ্য।
ভিডিওর আসল উৎস
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে গত ২৮ জুন ‘হৃদয় বাংলা ২৪’ নামক একটি ফেসবুক পেজে মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির আসল ক্যাপশনে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ ছিল—‘মাদকের আস্তানা মাদক কারবারির বাড়ি ভাঙচুর এলাকাবাসী।’ অর্থাৎ, শুরু থেকেই এটি মাদকবিরোধী একটি স্থানীয় পদক্ষেপ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছিল।
মূলধারার গণমাধ্যমের অনুসন্ধান
পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা আরও নিশ্চিত করতে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘সমকাল’ পত্রিকার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সমকালের ভিডিওতে প্রদর্শিত বাড়িঘরের নকশা, চারপাশের পরিবেশ এবং ভাঙচুরের দৃশ্যের সাথে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির নিখুঁত মিল পাওয়া যায়। সমকালের সেই ভিডিও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে দুই ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর।’ সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির কথাও জানা যায়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ভিডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা নয়। কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আস্তানা উচ্ছেদে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটি। মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি ভাঙচুরের এই সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপরাধমূলক প্রেক্ষাপটের ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে এবং বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






