মারামারির ভিডিওটি গাইবান্ধার নয়

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্দির প্রাঙ্গণে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি ও সহিংসতার ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে—ঘটনাটি বাংলাদেশের গাইবান্ধার। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে গিয়ে সেকুলাররা মন্দিরের পুরোহিত কে বেধড়ক মারছে রথযাত্রা যাতে না করা হয় সেজন্য বিরাট চাপ সৃষ্টি করছেন মৌলবাদী + কিছু জামাত শিবিরের জঙ্গিরা’।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভিডিওটি বাংলাদেশের গাইবান্ধার নয়, বরং এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি মন্দিরে প্রণামীর টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পুরোহিতদের দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনা।
আসল ভিডিওর উৎস ও প্রেক্ষাপট
ভিডিওটির সত্যতা অনুসন্ধানে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে হুবহু এই ভিডিওটির সংযুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার ঐতিহাসিক বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং মন্দিরের প্রণামী (দানবাক্সের টাকা) ভাগাভাগি নিয়ে পুরোহিতদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিবাদ চরম রূপ নেয় এবং তা একটি সহিংস সংঘর্ষে পরিণত হয়। দেওরিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মদনপুর থানা এলাকার অন্তর্গত মাহেন গ্রামে অবস্থিত বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। এই বিবাদের জেরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘TV9’ (টিভি৯)-এর ওয়েবসাইটে গত ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিও থেকে ধারণকৃত একটি স্থিরচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানেও এটিকে উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরে প্রণামীর টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হওয়া বিবাদের দৃশ্য বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, সংবাদমাধ্যম ‘ভাস্কর’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বরহজের মদনপুর থানা এলাকার ওই মন্দিরের মারামারির ঘটনাটি বশিষ্ঠ গিরি এবং ত্রিপুরারি গিরি নামের দুটি পক্ষের মধ্যে ঘটেছিল। সে সময় বশিষ্ঠ গিরির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ত্রিপুরারি গিরি নামের এক বয়স্ক পুরোহিতের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে আঘাত করে।
সামগ্রিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অকাট্য প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘গাইবান্ধা পলাশবাড়ী রাম মন্দিরে পুরোহিতদের ওপর হামলা করা হচ্ছে’ দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার একটি শিব মন্দিরে পুরোহিতদের নিজস্ব দুটি পক্ষের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মারামারির ভিডিওকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার ঘটনা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে।






