বিএসএফ সদস্যের মাথা ন্যাড়া করার ছবিটি এআই

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ছাগল চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর হাতে এক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য আটক হয়েছেন এবং পরবর্তীতে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটিতে এক ব্যক্তিকে ন্যাড়া মাথায় বসে থাকতে দেখা যায়।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া এবং বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। মূলত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি কাল্পনিক ছবি ব্যবহার করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম সীমান্তে যদি ছাগল চুরি করতে এসে কোনো বিএসএফ সদস্য সত্যিই আটক বা লাঞ্ছিত হতেন, তবে তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় সংবেদনশীল বিষয় হতো এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এই খবর ফলাও করে প্রচারিত হতো। কিন্তু প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আসল ছবির উৎস ও বিকৃতির প্রমাণ
ছবিটির উৎস অনুসন্ধানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বাংলানিউজ২৪’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গত ৯ জুন প্রচারিত একটি আসল ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই মূল ছবিতে থাকা ব্যক্তি, তাঁর অবয়ব, চুল এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটির নিখুঁত মিল রয়েছে। বাংলানিউজ২৪-এর মূল পোস্টটি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ছবিতে থাকা ব্যক্তিটি কোনো বিএসএফ সদস্য নন, বরং তিনি একজন সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক। এই আসল ছবিটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে রূপান্তর ও সম্পাদনা করে বিএসএফ সদস্যের দাবিযুক্ত ভুয়া ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
ওপেনএআই ডিটেকশন টুলের ফরেনসিক বিশ্লেষণ
ছড়ানো ছবিটির কারিগরি সত্যতা যাচাইয়ে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ (OpenAI)-এর নিজস্ব এআই ডিটেকশন টুল ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই প্রযুক্তির বিশ্লেষণে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটি ওপেনএআই-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেই তৈরি বা রূপান্তর করা হয়েছে। মূলত, ওপেনএআই তাদের তৈরি কৃত্রিম ছবিতে বিশেষ কিছু ডিজিটাল সিগন্যাল বা মেটাডেটা যুক্ত করে দেয়, যা সাধারণ চোখে দেখা না গেলেও তাদের নিজস্ব শনাক্তকারী টুলটি সেসব সিগন্যাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে এআই-জেনারেটেড (AI-generated) ছবি চিহ্নিত করতে পারে।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি প্রমাণিত যে, কুড়িগ্রাম সীমান্তে ছাগল চুরি করতে এসে বিএসএফ সদস্য আটকের দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। একজন বাংলাদেশি নাগরিকের ছবিকে ডিজিটাল এআই প্রযুক্তির কারসাজিতে বিকৃত করে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।








