খাগড়াছড়ির ভিডিওকে তোফায়েল আহমেদের জানাজায় হামলা বলে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সাবেক মন্ত্রী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর গাড়িতে জনতার হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে—তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বাধা দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে। তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা বা ভিত্তি নেই। প্রচারিত ভিডিওটি ভোলার কোনো ঘটনা নয়, বরং গত বছরের খাগড়াছড়ির একটি পুরোনো আন্দোলনের ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল দাবি
গতকাল (১ জুন ২০২৬) প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ, ২ জুন জোহরের নামাজের পর ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই দুঃখজনক ঘটনাকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বাধা দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জনতার হামলার শিকার হয়েছে।
অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমত প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে আজ (২ জুন) ভোলায় সেনাবাহিনী ও জনতার মধ্যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের তথ্য দেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পরবর্তীতে ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া দৃশ্যটি মূলত গত বছরের (২০২৫ সালের) সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার।
ভিডিওর প্রকৃত উৎস
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘বাহান্ন নিউজ’-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়, যার দৃশ্য ও প্রেক্ষাপটের সাথে সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
সে সময়কার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়িতে এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জুম্ম-ছাত্র জনতা বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল। আন্দোলনের একপর্যায়ে আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং মুখপাত্র উক্যেনু মারমাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা একটি সেনাবাহিনীর গাড়িকে ধাওয়া দেয়। ভিডিওটিতে মূলত সেই দৃশ্যটিই ধারণ করা হয়েছিল। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে প্রকাশিত “খাগড়াছড়িতে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে সমাবেশ, কাল আবারও অবরোধ” শীর্ষক প্রতিবেদন থেকেও এই আন্দোলনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং ভিডিওর উৎস বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজায় সেনাবাহিনীর গাড়ি হামলার শিকার হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খাগড়াছড়িতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের একটি পুরোনো ভিডিওকে ভোলার সাম্প্রতিক ঘটনা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






