আইটি স্পেশালিস্ট থেকে ভয়ংকর কারাতে মাস্টার, ব্লাস্টের চমক

সংগৃহীত ছবি
পর্দায় মারদাঙ্গা অ্যাকশন আর হাড়কাঁপানো ফাইট সিন দেখতে কে না ভালোবাসে! তবে সেই অ্যাকশন হিরো যদি চেনা ছকের কোনো পুরুষ না হয়ে, ঘরের পাশের কোনো সাধারণ আইটি কর্মী তরুণী হয়?
ঠিক এমনই এক ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ গল্প নিয়ে ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক সুভাষ কে রাজের নতুন তামিল অ্যাকশন-ড্রামা ‘ব্লাস্ট’।
সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ হার্টথ্রব প্রীতি মুকুন্দন এবং তার বাবার চরিত্রে দেখা গেছে অ্যাকশন কিং অর্জুনকে। সাধারণ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মার্শাল আর্টসের ভয়ংকর রূপ নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকদের কতটুকু মন জয় করতে পারল? চলুন জেনে নেওয়া যাক ‘ব্লাস্ট’ মুভি রিভিউ-তে।
গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছে নিলা। সে আটপৌরে নয়টা-পাঁচটার আর দশটা মেয়ের মতোই একজন সাধারণ আইটি প্রফেশনাল। অফিস শেষ করে ফোনে গেম খেলা আর কারাতে মাস্টার বাবা রাজারাম ও গৃহিণী মাকে নিয়ে তার সুখী সংসার। কিন্তু শান্ত ও সাধারণ এই রূপের আড়ালে যে এক একজন ভয়ঙ্কর মার্শাল আর্টস এক্সপার্ট লুকিয়ে আছে, তা বাইরের কেউ জানত না।
গল্পে টুইস্ট আসে তখনই, যখন একদল বিপজ্জনক অপরাধী নিলার চেনা পরিমণ্ডলে ঢুকে পড়ে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই সাধারণ পরিবারটি তাদের লুকিয়ে রাখা ভয়ংকর যুদ্ধকৌশল বের করতে বাধ্য হয়। নিলার বাবা ছোটবেলা থেকেই তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন—নিজের ওপর হোক বা কোনো অপরিচিত মানুষের ওপর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় রুখে দাঁড়াতে হবে। বাবার সেই আদর্শকে ঢাল বানিয়েই অপরাধীদের হাড়গোড় গুঁড়ো করতে মাঠে নামে নিলা।
‘ব্লাস্ট’ সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর গল্প বলার ধরন। পরিচালক সুভাষ কে রাজ খুব চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজের পুরুষরা নারীদের দুর্বল ভেবে ভুল করে। সিনেমার একটি দুর্দান্ত দৃশ্যে দেখা যায়, নিলার মার খেয়ে এক গুন্ডা যখন আস্তানায় গিয়ে পড়ে, তখন তাদের লিডার এসে অপরাধীকে খুঁজতে গিয়ে নিলাকে পাত্তাই দেয় না। কারণ তার ধারণা—একজন মেয়ে এত বড় মারামারি করতেই পারে না!
ঠিক তখনই নিলা তার চোখধাঁধানো মার্শাল আর্টসের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় যে, মেয়েরা চাইলে কতখানি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। খলনায়কদের এই আন্ডারএস্টিমেট করার মানসিকতাকেই পরিচালক সিনেমার মূল হাতিয়ার বানিয়েছেন।
সিনেমার প্রথমার্ধজুড়ে নিলার অ্যাকশন হিরো ইমেজকে এত বেশি উদযাপন করা হয়েছে যে, মূল গল্প বা মূল সংঘাত শুরু হতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। ফলে মাঝেমধ্যে কাহিনীর গতি কিছুটা স্লো মনে হতে পারে। এছাড়া অফিসে নিলার ম্যানেজারের দ্বারা হওয়া হ্যারাসমেন্ট বা কর্মক্ষেত্রে হয়রানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যেভাবে কমেডি বা হাসির ছলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা অনেকের কাছেই কিছুটা হালকা বা গুরুত্বহীন মনে হতে পারে।
প্রীতি মুকুন্দনের দুর্দান্ত ফাইটিং স্কিল এবং অভিজ্ঞ অ্যাকশন কিং অর্জুনের দারুণ অভিনয় এই সিনেমার অন্যতম বড় আকর্ষণ।
কোনো কাল্পনিক সুপারপাওয়ার ছাড়াই খাঁটি কারাতে ও মার্শাল আর্টসের বাস্তবসম্মত অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আপনাকে মুগ্ধ করবে। সেই সাথে চমৎকার পারিবারিক রসায়নের পাশাপাশি সিনেমাটিতে বিনোদনের মাধ্যমে সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর একটি দারুণ সামাজিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে।





