তৃষাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, বিতর্কে উদয়নিধি স্ট্যালিন

তৃষা কৃষ্ণান ও উদয়নিধি স্ট্যালিন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করার অভিযোগে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন তামিলনাড়ুর সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করার সময় তৃষার নাম টেনে এনে এমন ‘কুৎসিত’ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ডিএমকের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে তাঞ্জাবুরে কৃষকদের কাবেরী পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত ডিএমকের এক প্রতিবাদ সভায়। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় উদয়নিধি স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সমালোচনা করে বলছিলেন— ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কাবেরী পানি ইস্যু নিয়ে একটি শব্দও বলছেন না, তিনি আমাদের দলের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা সাজাতে ব্যস্ত।’
ঠিক সেই মুহূর্তে জনসভার ভিড় থেকে কয়েকজন কর্মী-সমর্থক উচ্চস্বরে অভিনেত্রীর নাম নিয়ে ‘তৃষা, তৃষা’ বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করে। স্লোগান শুনে উদয়নিধি বক্তব্য থামিয়ে একটু হাসেন এবং জনসমক্ষে এমন এক দ্ব্যর্থবোধক ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বসেন, যা পাশে থাকা তার দলের কর্মীরা হাততালি ও চিৎকার দিয়ে সমর্থন করে।
সেই ঘটনার ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীকে জড়িয়ে এমন অশালীন কৌতুক করার চরম বিরোধিতা করছেন সাধারণ নেটিজেনরা।
এক ক্ষুব্ধ নেটিজেন সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘কৃষকদের অধিকার আদায়ের সভার নামে হাজার হাজার পুরুষের সামনে একজন নারীকে নিয়ে এমন নোংরা ও নিম্নমানের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা চরম লজ্জাজনক।’
বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ এর পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য, প্রাক-মধ্যযুগীয় মানসিকতা এবং প্রকাশ্য নারী হেনস্তা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
দক্ষিণি মেগাস্টার বিজয় এবং তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্কের নানা গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে এই প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চে তৃষাকে টানাহেঁচড়া করা হলো না। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিজেপি নেতা নাইনার নাগেনদ্রনও বিজয়কে কটাক্ষ করে বলেছিলেন— ‘রাজনীতি করার আগে বিজয়ের উচিত তৃষার বাড়ি থেকে বের হওয়া’। যা নিয়ে পরে তৃষার আইনি দল কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল।
সর্বশেষ ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান কিংবা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজ্যটিতে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।







