ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের দাবি ফিল্ম সোসাইটি ফেডারেশনের

সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এবং প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ। সংগঠনটি অবিলম্বে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেডারেশন জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এ ধরনের ঘটনা শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য হতাশাজনক। সংগঠনটির মতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেখানে উগ্রপন্থী মহলের হুমকির মুখে প্রদর্শনী স্থগিতের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মৌলবাদী শক্তিকে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
ফেডারেশন কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দেওয়া এবং প্রদর্শনী বন্ধে চাপ সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, এবং দেশের সর্বত্র চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সংগঠনটি দেশের চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও প্রগতিশীল নাগরিকদের সাংস্কৃতিক চর্চার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। তবে কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আপত্তির কারণে প্রদর্শনী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু কওমি শিক্ষার্থী সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে বিভিন্ন পোস্ট দেন।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ বাহন। কোনো গোষ্ঠীর অসহিষ্ণুতার কারণে একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশ ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাঠপর্যায়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে একটি শিল্পকর্মের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।






