জুবিন গার্গের মৃত্যু: ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল আসাম

সংগৃহীত ছবি
আসামের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে আসামের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কংগ্রেস, রাইজর দল এবং অসম জাতীয় পরিষদ যৌথভাবে সমগ্র আসাম জুড়ে এক বৃহৎ গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এ আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়াত শিল্পীর স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গের হাতে।
রবিবার আসামের কামরূপ মহানগর জেলার সোনাপুরে ‘জুবিন গার্গ ক্ষেত্র’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাইজর দলের বিধায়ক অখিল গগৈ জানান, জুবিনের মৃত্যুর এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ন্যায়বিচার মেলেনি।
তাই সরকারের ওপর তীব্র জনমতের চাপ তৈরি করতে অরাজনৈতিক ব্যানারে এই আন্দোলন পরিচালনা করা হবে, যেখানে সাধারণ অনুরাগী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো এক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেবে।
গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী নেকিবুর জামান জানান, এ মামলায় মূল অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার ঘটনাটি জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গত অক্টোবরে আসাম পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপন গার্গকে জামিন দেয় গৌহাটি হাইকোর্ট।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে বিশেষ তদন্তকারী দল কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া জুবিনের সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে ৫০ হাজার রুপির বন্ডে জামিন দেওয়া হয়, যিনি এ মামলার প্রথম জামিনপ্রাপ্ত অভিযুক্ত।
হাইকোর্টের এ জামিনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আসাম সরকারও জামিনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে জুবিন গার্গের পরিবার, অনুরাগী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগ আসামের রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, গরিমা গার্গের নেতৃত্বে এ গণআন্দোলন ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করতে কতটা প্রভাব ফেলে।




