জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন বিটিএসের মালিক

জনপ্রিয় মিউজিক ব্যান্ড বিটিএস এর সদস্যদের সাথে বিটিএস এর মালিক বাং সি-হিউক
বিশ্বকাঁপানো জনপ্রিয় মিউজিক ব্যান্ড বিটিএস এর মালিক বাং সি-হিউক এখন পড়েছেন এক বড় বিপদে। ৭০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের কোম্পানির মালিক এই ধনকুবেরকে এখন খুঁজছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, নিজের কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে ছাড়ার আগে তিনি বড় ধরণের জালিয়াতি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ধোঁকা দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, ২০১৯ সালে বাং সি-হিউক বিনিয়োগকারীদের বলেছিলেন যে তার কোম্পানি ‘হাইব’ এখনই শেয়ার বাজারে আসছে না। কিন্তু মুখে না বললেও ভেতরে ভেতরে তিনি ঠিকই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর ২০২০ সালে যখন কোম্পানিটি বাজারে আসে, তখন এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার বা ২০০ বিলিয়ন ওন ভরেছেন নিজের পকেটে। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ বাং সাহেব।
বাং এর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই চলছে এই তদন্ত। এর মধ্যে পুলিশ তার বিশাল অফিস ‘হাইব’ এর সদর দপ্তরে কয়েকবার তল্লাশি চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, জব্দ করা হয়েছে তার অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ। কোম্পানি থেকে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে পদত্যাগ করার জন্য। এমনকি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গত আগস্ট থেকে তার বিদেশে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
এই ঝামেলার মাঝেই বিটিএস ব্যান্ড প্রায় চার বছর পর তাদের বিশ্ব ভ্রমণ বা ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু করেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই একটি ট্যুর থেকেই বাং এর কোম্পানি ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে কামাই করবে। এই ট্যুর ঘোষণার সাথে সাথেই কোম্পানির শেয়ারের দাম আকাশে উঠে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অত্যন্ত কড়া। যদি বিটিএস এর এই মালিকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তবে তাকে অন্তত ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এমনকি অপরাধের মাত্রা বেশি হলে তাকে সারাজীবনের জন্য জেলেও যেতে হতে পারে।
বাং সি-হিউক ছোটবেলা থেকেই গানের পাগল ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যান্ড গড়েছিলেন। পরে বড় হয়ে জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের সাথে মিলে বড় বড় সব হিট গান উপহার দেন। গান বানানোর জাদুকরী ক্ষমতার জন্য সবাই তাকে ভালোবেসে ‘হিটম্যান বাং’ বলে ডাকত। এরপর ২০০৫ সালে তিনি নিজের নতুন কোম্পানি ‘বিগ হিট’ শুরু করেন, যা আজ পরিচিত ‘হাইব’ নামে।
শুরুতে তিনি বিটিএস কে বানাতে চেয়েছিলেন সাধারণ হিপ-হপ গ্রুপ হিসেবে। কিন্তু পরে ব্যবসার কথা চিন্তা করে তাদের ‘কে-পপ আইডল’ মডেলে সাজান। তার এই বুদ্ধিই তাকে আজ মালিক বানিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার। বিটিএস এখন বিশ্বের এক নম্বর পপ গ্রুপ, যাদের গান স্পটিফাইতে শোনা হয়েছে ৫০০ কোটির বেশি বার।
২০২৪ সালের শেষে বাং এর বিরুদ্ধে নতুন এক তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ বলছে, কোম্পানি শেয়ার বাজারে আসার আগেই বাং গোপনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন কিছু প্রাইভেট ফান্ডের সাথে। তিনি বিনিয়োগকারীদের বলেছিলেন কোম্পানি বাজারে আসবে না, যাতে তারা অল্প দামে শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেয়। পরে যখন শেয়ার বাজারে আসল, তখন সেই লাভের ৩০ শতাংশ কমিশন নিজের পকেটে নিয়েছেন বাং।
তবে হাইব কোম্পানি বলছে, তারা কোনো অন্যায় করেনি। তারা সব তথ্যই জানিয়েছিল নিয়ম অনুযায়ী। বাং এর আইনজীবীরাও পুলিশের এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার খবরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই শেয়ার বাজারে হাইব এর দাম ৩ শতাংশের মতো কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে অন্যান্য বড় বড় কে-পপ কোম্পানির ওপরও।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন শেয়ার বাজারে কারসাজি ঠেকাতে চালু হয়েছে ‘ওয়ান স্ট্রাইক অ্যান্ড ইউ আর আউট’ নীতি। অর্থাৎ একবার অপরাধ করলেই খবর আছে! এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল স্যামসাং বা কাকাও এর মতো বড় বড় কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে।
এখন দেখার বিষয়, বিটিএস এর ভাগ্যদাতা এই ‘হিটম্যান’ জেলের ঘানি টানেন নাকি মুক্তি পান।

