প্যারিসে লোকগীতিকন্যা জয়া বর্মণ

জয়া বর্মণ- সাজ্জাদ হোসেন
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পূর্ব শহরতলিতে বসবাস করেন কণ্ঠশিল্পী জয়া বর্মণ। বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ, মায়ের বাড়ি নরসিংদী। আট বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে প্রবাসে পাড়ি জমান তিনি। এরপর কেটে গেছে ১৮ বছর। বিদেশ-বিভুঁইয়ে গত দেড় যুগে বাংলা লোকগান, আধুনিক গান ও শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চা করেছেন এই গায়িকা। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রবাসে বাংলা গানকে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।
দেশের মানুষের ভালোবাসা, দেশের মাটি এবং সংস্কৃতি খুব টানে তাকে। এবার তার দেশে আসার অন্যতম কারণ নতুন গানের রেকর্ডিং। শিল্পী সমরজিৎ রায়ের সঙ্গে একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দেবেন তিনি। শিগগির এটি প্রকাশ পাবে।
পারিবারিকভাবে সংগীতে হাতেখড়ি জয়ার ছোটবেলায়। সেটি ধীরে ধীরে পরিণত হয় নিয়মিত সাধনায়। তবে সংগীতকে পেশা হিসেবে নয়, বরং জীবনদর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই দেশ ছেড়ে বিদেশে গেলেও গান কখনো ছাড়েননি।
শাস্ত্রীয় সংগীত সাধনা
দীর্ঘদিন স্বনামধন্য নজরুলসংগীত শিল্পী নীলিমা সেন গীতার কাছে তালিম নিয়েছেন জয়া বর্মণ। তার অনুভূতিতে, ‘ফ্রান্সের মতো দেশে থেকেও এমন একজন গুরুর কাছে নিয়মিত শেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য।’ ভারতের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত শ্যামসুন্দর গোস্বামীর কাছে মাস্টারক্লাস করেছেন জয়া বর্মণ। প্রতি বছর পণ্ডিত গোস্বামী ফ্রান্সে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সংগীতজ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। পরে প্রিয়াঙ্কা মৈত্রীর কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সংগীত শিখেছেন।
ভালোবাসার লোকগান
জয়ার সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার জায়গা লোকসংগীত। গুরু নীলিমা সেন গীতা শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতই শেখাননি, পাশাপাশি বাংলার লোকগানের বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে রাধারমণ দত্ত, শাহ আব্দুল করিমসহ সিলেট অঞ্চলের লোকসংগীত শেখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ‘লোকগান শুধুই একটি সংগীতধারা নয়; এটি বাংলার মানুষের জীবন, দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।’




