আগামীর সময়কে পিয়ার্স ব্রসনান
মুহূর্তের মধ্যে চরিত্র তৈরি করতে হয়

জেমস বন্ড খ্যাত আইরিশ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান
আমেরিকান ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্যারামাউন্ট প্লাসের ক্রাইম-ড্রামা সিরিজ ‘মবল্যান্ড’-এ কনরাড হ্যারিগান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘জেমস বন্ড’ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান। লন্ডনে ‘মবল্যান্ড’ সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমের শুটিং সেট থেকে জনি হকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ৭৩ বছর বয়সী আইরিশ তারকা
আপনাকে বাংলাদেশের দর্শক ‘জেমস বন্ড’ হিসেবেই বেশি চেনেন।
পিয়ার্স ব্রসনান: (মুচকি হাসি)।
বড় পর্দায় জেমস বন্ডের মতো অনেক আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন আপনি। এবার ‘মবল্যান্ড’-এ এক অপরাধী পরিবারের কর্তা হিসেবে ছোট পর্দায় এলেন। অপরাধজগতের প্রতি আনুগত্য, ক্ষমতা ও পারিবারিক উত্তরাধিকারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ক্ষমতাধর চরিত্রটি কীভাবে তৈরি করেছেন?
পিয়ার্স ব্রসনান: সবকিছুর শুরু চিত্রনাট্য থেকেই। পাতায় যা লেখা আছে, সেখান থেকেই। এরপর নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাতে হয়। রাতে চিত্রনাট্য নিয়ে বসি, মন দিয়ে পড়ি, বারবার পড়ি। একসময় চিত্রনাট্য নিজেই আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে! ইতিহাসের বিভিন্ন খলনায়ক ও ক্ষমতাধর চরিত্র দেখেছি। বিভিন্ন চিত্রকর্ম থেকেও অনুপ্রেরণা নিয়েছি। আর নিজেকে বিশ্বাস করলে কোনো একসময় চরিত্রটি নিজের মতো করে তৈরি হয়ে যায়।
প্রসঙ্গ ‘মবল্যান্ড’
১৫ আগস্ট ২০২৬
‘মবল্যান্ড’ সিরিজের চিত্রনাট্যের বৈশিষ্ট্য কী?
পিয়ার্স ব্রসনান: সিরিজটির লেখক ব্রিটিশ নাট্যকার জেজ বাটারওয়ার্থ। তার লেখা এত চমৎকারভাবে সাজানো, যেন সবকিছুই চোখের সামনে মেলে ধরা থাকে। এর নিজস্ব একটা ছন্দ আছে। ফলে আমরা ধীরে ধীরে চরিত্রের মধ্যে রূপান্তরিত হতে শুরু করি।
সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজকদের একজন গাই রিচি। আপনার অভিনীত কনরাড হ্যারিগান চরিত্রটি নিয়ে তার সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল?
পিয়ার্স ব্রসনান: গাই রিচির সঙ্গে কনরাড হ্যারিগান চরিত্রটি নিয়েই আমার প্রথম কথাবার্তা হয়। এর আগে আমাদের কথা হয়নি। তিনি আমাকে বললেন, ‘শোনেন, চরিত্রটি নিয়ে চিন্তা করবেন না। শুটিংয়ের দিন আমরা সব ঠিক করে নেব। ১৫ মিনিটেই হয়ে যাবে! আপাতত এটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।’ এরপর কয়েক সপ্তাহ কেটে গেল; কিন্তু সেটি মাথা থেকে সরাতে পারিনি; বরং ভাবতে থাকলাম। চরিত্রটি নিয়ে দুশ্চিন্তাও হচ্ছিল, যেমনটা সাধারণত হয়। আবার একই সঙ্গে উত্তেজনাও কাজ করছিল।
‘মবল্যান্ড’-এ কোন উচ্চারণে সংলাপ বলেছেন?
পিয়ার্স ব্রসনান: হেলেন (ব্রিটিশ অভিনেত্রী হেলেন মিরেন) আর আমি এ নিয়ে কথা বলেছিলাম। উত্তর লন্ডন, দক্ষিণ লন্ডন ও লন্ডনের বিভিন্ন ধরনের উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এরপর টম (ব্রিটিশ অভিনেতা টম হার্ডি) আর আমার শুটিংয়ের প্রথম দিনেই গাই রিচি আমাকে বলে, ‘আইরিশ উচ্চারণ করুন। একেবারে খাঁটি আইরিশ।’ তখন একটু চিন্তায় পড়লাম, আজকাল আমার আইরিশ উচ্চারণ কেমন যে শোনায়!
তারপর?
পিয়ার্স ব্রসনান: আমার ডায়ালেক্ট কোচের সঙ্গে আলাপ করার সময় বললাম, ‘আমার কেরি অঞ্চলের আইরিশ উচ্চারণ দরকার।’ তিনি আমাকে সেই উচ্চারণ তৈরি করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই উচ্চারণের সূত্র ধরে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে চরিত্রটিকে খুঁজে পেলাম। ২০ মিনিট পরই আমরা শুটিং শুরু করলাম। তাই এই কাজ ছিল অনেকটা ছুরির ফলার ওপর দাঁড়িয়ে চরিত্র তৈরি করার মতো। মুহূর্তের মধ্যেই একটা চরিত্র সৃষ্টি করে ফেলতে হয়।
মানে, শুটিংয়ের প্রথম দিনেই?
পিয়ার্স ব্রসনান: হ্যাঁ, প্রথম দিনেই। আমাদের সব পরিচালকই একেবারে দুর্দান্ত ছিলেন। ঠিক জায়গায়, ঠিক মুহূর্তে— সবাই অসাধারণ কাজ করেছেন।








