সাদ বললেন শি ইজ দ্য বেনি

নাযাহ নাওয়ার
ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ দিয়ে ‘লাক্স সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নাযাহ নাওয়ারের অভিনয়ে অভিষেক হলো। এবার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আমার জন্য একেবারেই অবিশ্বাস্য একটি অভিজ্ঞতা। কারণ, ক্যারিয়ারের শুরুতেই শিহাব শাহীন স্যারের মতো একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছি। তার কাজ আমার খুব পছন্দ। অনেক আগে থেকেই তার কাজ দেখি ও অনুসরণ করি। তার কাজের মধ্য দিয়েই মূলধারার অভিনয়ে আমার অভিষেক হলো। সাধারণত অনেক বছরের অভিজ্ঞতার পর এমন নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ আসে। সেই জায়গা থেকে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
যতটা উপভোগ করেছি, ততটাই নার্ভাস ছিলাম। কারণ, প্রথমবারের মতো কোনো সহশিল্পীর সঙ্গে রোমান্টিক গল্পে অভিনয় করেছি। তবে আমার সহশিল্পী পার্থ শেখসহ পুরো সেটের সবাই খুব সহযোগিতা করেছেন। কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে আমি সমস্যায় পড়লে পার্থ ভাইয়া খুব সুন্দরভাবে সামলাতেন, যাতে অন্যদের সামনে আমাকে বিব্রত হতে না হয়।
শুটিংয়ের আগে মহড়া করেছেন?
আমাদের প্রায় ১৫ দিনের মহড়া হয়েছিল। সেখানে দৃশ্যগুলো ধরে ধরে অনুশীলন করেছি। ফলে শুটিংয়ের সময় চরিত্র ও দৃশ্য বুঝে অভিনয় করতে সুবিধা হয়েছে। শুটিংয়ের প্রথম দিন সেটে গিয়ে মনে হচ্ছিল, একসময় এমন স্বপ্নই দেখতাম— সেটে যাব, মূলধারার কাজে অভিনয় করব, পর্দায় আমার নিজের একটি গল্প থাকবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখার অনুভূতি ছিল অন্যরকম।
‘ক্যাফে আমব্রেলা’র চরিত্রটি বাস্তবের নাযাহর সঙ্গে কতটা মেলে?
বাস্তব জীবনের আমার সঙ্গে চরিত্রটির একেবারেই মিল নেই। চেহারা, জীবনযাপন, পারিবারিক পটভূমি— সবকিছুতেই অনেক পার্থক্য। চরিত্রটি কখনো খুব আবেগপ্রবণ, আবার কখনো আচরণে একেবারেই ভিন্ন। সব মিলিয়ে চরিত্রটি আমার ব্যক্তিত্বের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে হিজাব পরতে হয়েছে। ছোটবেলায় অবশ্য হিজাব পরতাম। বড় হওয়ার পর নিয়মিত পরা হয়নি।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘অ্যানি’তে কীভাবে যুক্ত হলেন?
‘অ্যানি’র শুটিং হয়েছিল ২০২৩ সালের শেষ দিকে। তখনো ‘লাক্স সুপারস্টার’-এ অংশ নিইনি। সেই সময় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল। দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়া ও লুক টেস্টের মধ্য দিয়ে কাজটি পেয়েছি। আমাকে তিনবার অডিশন দিতে হয়েছিল। তৃতীয় ধাপে পরিচালক নিজেই অডিশন নিয়েছিলেন। অডিশনের পর তিনি বলেছিলেন, ‘শি ইজ দ্য বেনি, ও-ই বেনি।’ সব মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। কোনো শিল্পী একবার তার সঙ্গে কাজ করলে বারবার কাজ করতে চাইবেন। তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি কাছ থেকে দেখার ও বোঝার সুযোগ পেয়েছি। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক মূল্যবান।
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ রোমান্টিক ঘরানার কাজ, অন্যদিকে ‘অ্যানি’ মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী গল্প। দুটি কাজের চরিত্র ও অভিনয়ের ধরনও আলাদা। ফলে একেকটিতে একেকভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ হয়েছে। অভিনয়ের বিভিন্ন দিক অন্বেষণ করতে চাই। সেই জায়গা থেকে ভিন্ন ঘরানার কাজে যুক্ত হওয়া আমার জন্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা।
শোবিজে আসার পেছনে অনুপ্রেরণা কারা?
ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই টুকটাক কাজ শুরু করি। এখনো শেখার অনেক কিছু আছে। প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে চাই, যেন মানুষ আমাকে চেনে— নাযাহ নাওয়ার নামে একজন আছে। আমি যেভাবে অন্য মানুষকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, আমাকেও দেখে যেন অন্য সাধারণ মেয়েরা অনুপ্রাণিত হতে পারে। তারা যেন ভাবে, ‘আমি নাযাহর মতো হতে চাই।’ নিজের একটি পরিচয় তৈরির ইচ্ছা থেকেই আমার এই পথে আসা। অনুপ্রেরণা বলতে নিজের ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড়।
পড়াশোনা ও অভিনয় একসঙ্গে সামলাচ্ছেন কীভাবে?
এটা বেশ কঠিন। এবার এইচএসসি শেষ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়েছি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শুটিংয়ের সময়সূচি সব সময় নির্দিষ্ট থাকে না। কখনো সকালে শুরু হয়ে পরদিন পর্যন্ত শুটিং চলতে পারে, আবার টানা তিন-চার দিনও কাজ করতে হয়। ফলে দুটি একসঙ্গে সামলানো বেশ কঠিন। তারপরও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করি। যে কাজ ভালোবাসি, সেটার প্রতি আগ্রহ থাকলে পরিশ্রম করতেও ভালো লাগে। ইচ্ছাশক্তি থাকলে অনেক কিছুই সামলে নেওয়া যায়।




