শহীদ মিনারে প্রাচ্যনাট স্কুলের পথনাটক ‘কবির মৃত্যু’

‘কবির মৃত্যু’ পথনাটকের দৃশ্য - প্রাচ্যনাট
কবির শরীরকে হত্যা করা যায়; কিন্তু সত্য, স্বাধীনতা ও মানুষের মুক্তির স্বপ্নকে চিরকালের জন্য বধ করা যায় না— এমন বার্তা ছড়িয়ে দিতে পরিবেশন করা হলো পথনাটক ‘কবির মৃত্যু’। প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইনের ৫১তম ব্যাচের পরিবেশনায় গতকাল শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাটকটি উপভোগ করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক।
শওকত হোসেন সজিবের লেখা নাটকটির ব্যবস্থাপনায় ছিল প্রাচ্যনাট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নাটকটি শুধু কবি ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকার মৃত্যুর বর্ণনা নয়; এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে অন্যায়ের মুখে মানুষের অবস্থান এবং সমাজের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। একজন মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে আমরা তার পাশে দাঁড়াই, নাকি শুধু দর্শক হয়ে তার পতন দেখি— এমন অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি করে নাটকটি।
‘কবির মৃত্যু’ একই সঙ্গে একজন শিল্পীর মৃত্যু, সমাজের বিবেকের পরীক্ষা এবং স্বাধীনতার পক্ষে এক অমর প্রতিবাদের কথাও তুলে ধরে।
‘কবির মৃত্যু’র নির্দেশনা দিয়েছেন আল-আমিন খন্দকার। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, “২০২৬ সালে এসে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কবির মৃত্যু : লোরকা স্মরণে’ কবিতাটির তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে উঠেছে। কারণ, কবিতাটি শুধু একজন কবির হত্যার কথা বলে না; এটি প্রশ্ন তোলে— একটি সমাজ সত্যের কণ্ঠস্বরকে কীভাবে দেখে, ক্ষমতা প্রতিবাদকে কীভাবে দমন করে, আর মানুষ অন্যায়ের সামনে কতটা নীরব থাকে।”
২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাচ্যনাট স্কুল গত জুলাইয়ে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। তরুণ প্রজন্মের থিয়েটারপ্রেমীদের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রাথমিক অনুশীলনের পাশাপাশি আলো, পোশাক ও মঞ্চসজ্জার মতো কারিগরি নন্দনতত্ত্বে দক্ষ করে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গত আড়াই দশকে প্রাচ্যনাট স্কুল থেকে অভিনয় ও নাট্যরীতির কোর্স সম্পন্ন করেছেন আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।




