‘ছোটবেলায় বাবাকে খুব ভয় পেতাম’

কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় ‘বাবা’ চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন আবুল হায়াত। বাবা দিবস উপলক্ষে অভিনয়, পরিবার, পিতৃত্বের আনন্দ-দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
নাটক বা চলচ্চিত্রে আপনার প্রথম বাবা চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
তখনকার সময়ে বাবা বা বয়স্ক চরিত্রে কাজ করতে গেলে এখনকার মতো জটিল প্রস্তুতি লাগত না। চুলে সাদা রঙ, চোখে চশমা, হাঁটাচলা একটু ধীর করে দিলেই বয়স্ক চরিত্র হয়ে যেত। তবে কণ্ঠে স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার আবহ আনার চেষ্টা করতাম। এভাবেই ধীরে ধীরে স্নেহময় বাবার চরিত্রে মানিয়ে নিতে শুরু করি।
প্রথমবার বাবা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কোন নাটকে?
মঞ্চে প্রথম বাবা চরিত্রে অভিনয় করি ১৯৬৩ সালে। বুয়েটের কোনো একটি নাটকে। টেলিভিশনে ১৯৬৮ সাল থেকে কাজ করছি। তবে বাবা চরিত্রে প্রথম অভিনয় করি ১৯৭২ সালে। নাটকের নাম ছিল ‘বাংলা আমার বাংলা’। এটি পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।
অল্প বয়সে বৃদ্ধ বাবার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে কাজ করতে কোনো দ্বিধা হতো?
কখনোই না। আমি নায়ক, ভিলেন, রোমান্টিক, মধ্যবয়সীসহ সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার কাছে অভিনয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রের ধরন নিয়ে কখনো সংকোচ ছিল না আমার। ফেরদৌসী মজুমদার, বুলবুল আহমেদ, সৈয়দ আহসান আলী সিডনি, গোলাম মুস্তাফা, সিরাজুল ইসলাম, মমতাজউদদীন আহমদ, ডলি জহুরদের বাবা হয়েছি পর্দায়। এখনকার প্রজন্ম তো আছেই।
এখনকার নাটক বা সিনেমায় বাবা চরিত্রের উপস্থাপন কতটা বদলেছে বলে মনে হয়?
বাবা তো একটি শাশ্বত চরিত্র। আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যারা অভিনয় করেন, তারা সবাই নিজ নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বাবার চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাই কমবেশি সবাই সফল হন বলব। বাবা চরিত্রের মৌলিক জায়গাটা খুব একটা বদলায়নি। নাটক বা সিনেমায় চরিত্রের সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা, মানসিকতাসহ সবকিছু বিবেচনা করে নিজেকে তৈরি করতে হয়।
আপনার মেয়েরা তাদের ছোটবেলায় কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপনার সঙ্গে বেশি আলাপ করতেন?
বই পড়া, বই কেনা, গল্পের বই, গান ও নাচ শেখা— এসব নিয়েই বেশি কথা হতো আমাদের। সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা করত মেয়েরা। এখন তারা ভিন্ন দেশে থাকলেও প্রতিদিনই দুই-তিনবার, কখনো চারবারও কথা হয়। তবে এখন শুধু তারাই আমার কাছে পরামর্শ চায় না, আমরাও অনেক বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাই। সন্তানদের যেভাবে মানুষ করতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই করতে পেরেছি। এজন্য নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি।
নিজের বাবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?
ছোটবেলায় বাবাকে খুব ভয় পেতাম। টাকা-পয়সা দরকার হলে বাবার কাছেই যেতে হতো, তখন বেশ সংকোচ লাগত। বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাবার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতাম।
বর্তমান প্রজন্মের বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন?
পৃথিবী এখন অনেক বদলে গেছে। প্রযুক্তির কারণে মানুষ অনেক সচেতন ও স্মার্ট হয়েছে। আগে অনেক বাবা ছিলেন গম্ভীর ও কঠোর। এখন বাবারা বেশ বন্ধুসুলভ। ফলে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত ও আন্তরিক হয়েছে।
নতুন কোনো কাজ করছেন?
এখন শুটিং সেট থেকেই কথা বলছি। নাটকটির নাম এখনো ঠিক হয়নি। অমিতাভ রানা ও সুব্রত মিলে পরিচালনা করছেন। এতে আমি একজন বাবার চরিত্রে অভিনয় করছি, যিনি কর্মজীবনে অবসরপ্রাপ্ত।
লেখালেখি কি করছেন?
কিছুদিন আগে আমার লেখা একটি বই প্রকাশ হয়েছে। এখন নতুন একটি বই লেখার কথা ভাবছি। এখনো বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিনি। তবে ভেবে যাচ্ছি।




