দেখতে পারেন
কালজয়ী ‘বাইসাইকেল থিভস’

‘বাইসাইকেল থিভস’ চলচ্চিত্রের দৃশ্য
আজ ৩ জুন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস। ঊনবিংশ শতাব্দীতে আবিষ্কৃত এই দ্বিচক্রযান নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে বিখ্যাত সিনেমা ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাইসাইকেল থিভস’। এটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য সৃষ্টি। চলচ্চিত্রে নিও-রিয়ালিজমের প্রবক্তা হিসেবে ধরা হয় এই সিনেমাকে। নিও-রিয়ালিজম শিল্পধারার প্রতিপাদ্য ছিল— স্টুডিওর কৃত্রিম পরিবেশ ছেড়ে পথের ধুলোয় ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে জীবন যেখানে যেমন, সেভাবেই রুপালি পর্দায় তুলে ধরা। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজ বাস্তবতাকে সত্যিকারভাবে চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তুলতে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে ‘বাইসাইকেল থিভস’।
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী, লেখক ও কবি লুইজি বার্তোলিনির ‘দ্য বাইসাইকেল থিভ’ উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি পরিচালনা করেন ভিত্তোরিও ডি সিকা। মাস্টারপিস চলচ্চিত্রটিতে উঠে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার করুণ চিত্র। বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত দেশটিতে কয়েক বছর পরের দৃশ্যপটে দেখা যায়, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য প্রকট আকার ধারণ করায় কাজের খোঁজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এদিক-ওদিক ছুটছে। গল্পের মূল চরিত্র অ্যান্টোনিও রিকি তাদেরই একজন। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। একটি চাকরির খোঁজে দিশাহারা হয়ে পড়ে সে। একদিন হঠাৎ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সেঁটে দেওয়ার একটি চাকরি পায় অ্যান্টোনিও। কিন্তু শর্ত হলো, তার নিজস্ব সাইকেল থাকা চাই। কিন্তু যার ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সে কীভাবে সাইকেল কেনার টাকা জোগাড় করবে!
দেড় ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ‘বাইসাইকেল থিভস’-এর শুটিং হয়েছে রোমের পথেঘাটে। ইতালিয়ান চলচ্চিত্রকার ভিত্তোরিও ডি সিকা কোনো পেশাদার অভিনয়শিল্পীকে নেননি। অ্যান্টোনিও রিকি চরিত্রে অভিনয় করা ল্যাম্বার্তো ম্যাজ্জিয়োরানি ছিলেন কারখানা শ্রমিক। ব্রুনো চরিত্রে অভিনয় করেছেন এনজো স্তাইয়োলা। ইতালিয়ান ভাষায় নির্মিত সাদাকালো সিনেমা ‘বাইসাইকেল থিভস’ ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায়। ১৯৫০ সালে একাডেমি বোর্ড অব গভর্নরস বিশেষ অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের অস্কার দিয়েছে এই সিনেমাকে। সেরা চিত্রনাট্যের জন্য অস্কারে মনোনয়ন পান সিজেয়ার জাভাত্তিনি। একই বছর সপ্তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কৃত হয় এটি। সিনেমা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী চলচ্চিত্র হিসেবে এটি স্বীকৃত।




