পাঞ্জাবের ‘সতলুজ’ বিতর্ক

দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও বলিউড তারকা অর্জুন রামপাল অভিনীত সতলুজ সিনেমার দৃশ্য
পাঞ্জাবি তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও বলিউড তারকা অর্জুন রামপাল অভিনীত নতুন সিনেমা ‘সতলুজ’ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এটি গত ৩ জুলাই মুক্তির পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভ থেকে অজানা কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পাইরেটেড কপি ছড়িয়ে পড়েছে।
জিফাইভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি’র কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিনেমাটি ভারতে আর দেখানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।
মানবাধিকারকর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত ‘সতলুজ’-এর গল্প। আশির দশকের শুরু থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সময় বহু মরদেহ পরিবারের অজান্তেই গোপনে দাহ করা হয়েছে এবং সেসবের যথাযথ নথিও সংরক্ষণ করা হয়নি— এমন অভিযোগ তদন্ত করেন খালরা। ১৯৯৫ সালে তিনি নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, তাকে অপহরণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঞ্জাব পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
প্রথমে সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছিল ‘গাল্লুঘারা’। পাঞ্জাবি শব্দটি শিখ ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞগুলোর স্মৃতি বহন করে। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) নামটি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল। এ কারণে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামকরণের মাধ্যমে খালরার নিখোঁজ হওয়ার বছরের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওটিটিতে মুক্তির আগে আবারও নাম বদলে রাখা হয় ‘সতলুজ’ (পাঞ্জাবের একটি নদী)।
হানি ত্রেহানের পরিচালনায় সিনেমাটির নির্মাণ ২০২২ সালে শেষ হলেও ভারতের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। প্রথমে সেন্সর বোর্ড ২১টি কাটের নির্দেশ দেয়। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭-এ।
ভারতীয় আইন অনুযায়ী সরকারি নির্দেশে কোনো কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। এ কারণে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরএসভিপি মুভিজের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সরকারি নির্দেশেই ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
দিলজিৎ দোসাঞ্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ ভিডিওতে জানান, ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার শঙ্কা তার আগেই ছিল। তবে এত দ্রুত সেটি ঘটবে তিনি ভাবেননি। তার দাবি, মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই নির্মাতারা খুব বেশি প্রচারণা চালাননি।




