ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিকল্প কিছুর চেষ্টা করছি

সামিরা খান মাহি
একসময় টানা ব্যস্ত থাকলেও এখন কাজ কমিয়েছেন অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। নতুন পরিচয়ে সামনে আসছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
ব্যস্ততা কী নিয়ে?
সম্প্রতি ছয় পর্বের দুটি সিরিজের কাজ করেছি। দুটোই সিনেমাওয়ালার জন্য তৈরি হয়েছে। একটির নাম ‘কর্মফল’। অন্যটির নাম এখনই বলতে চাই না। কারণ, অনেক সময় শুটিং শেষে কিংবা সম্পাদনার পর নাম পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। দুটিই মূলত পারিবারিক গল্প। একটি নারীপ্রধান গল্প, অন্যটি ফ্যামিলি ড্রামা। দুটোই পরিবারের আবেগ, সম্পর্ক ও নানা বাস্তবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে।
চরিত্রগুলোতে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল?
খুব ব্যতিক্রম চরিত্র কমই আসে। সিনেমার মতো সময় নিয়ে চরিত্র তৈরির সুযোগ নাটকে সবসময় পাওয়া যায় না। তাই গতানুগতিকতার মধ্যেই ভালো কাজ করার চেষ্টা থাকে আমার।
সিনেমায় অভিনয়ের পরিকল্পনা আছে?
পরিকল্পনা তো আছেই। কিন্তু কোনো কিছু চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বলতে চাই না। অনেক সময় পরিকল্পনা থাকে, পরে দেখা গেল সেটি বাস্তবায়ন হলো না। তাই আগে কাজ নিশ্চিত হোক, তারপর বলব। যদি হয়, অবশ্যই সবাই জানবেন। না হলেও আমার কোনো আফসোস নেই। নিজের এখনকার কাজ নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। তবে একটা খবর আসতে পারে।
এখন ইউটিউবে রোমান্টিক ও কমেডি নাটকের চাহিদা বেশি। ভিউয়ের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
সত্যি বলতে, এখন আর ভিউ নিয়ে খুব একটা ভাবি না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার বেশির ভাগ কাজই অনেক ভালো ভিউ পেয়েছে। তাই ভিউ নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। একটা সময় কমবেশি হবেই। এটি খুব স্বাভাবিক বিষয়। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো কাজ। মানুষ যদি কাজ দেখে প্রশংসা করে, সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। অবশ্য ভিউ বেশি হলে ভালোই লাগে। কারণ, তখন বুঝতে পারি মানুষ কাজটি দেখছে।
এক বছর ধরে আপনার কাজ কিছুটা কম। এর কারণ কী?
ইচ্ছা করেই কাজ কমিয়েছি। এমন না যে কাজ পাচ্ছিলাম না। আমার মা-বাবা ঢাকায় থাকেন। তাদের প্রতি আমার দায়িত্ব আছে। তাদের সময় দিতে চাই। একটা সময় বলতে গেলে মাসের ২৫ দিনই শুটিং থাকত। তখন অনেক আয় হতো। কিন্তু পরে বুঝেছি, জীবনে শুধু টাকা উপার্জনই সব নয়। গত পাঁচ বছরে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হারিয়েছি। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারিনি। পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মিস করেছি। এমনও হয়েছে, টানা তিন-চার বছর ঈদের সময় গ্রামের বাড়ি যেতে পারিনি। আত্মীয়স্বজনের বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তখন বুঝেছি, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, জীবনে সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা দরকার। শুধু কাজ করে গেলে হবে না; পরিবার, বন্ধু, নিজের জন্য সময়— সবকিছুরই মূল্য আছে। আমি হারিয়ে যাইনি। এখনো কাজ করছি, মানুষ এখনো আমার নাটক দেখছে ও পছন্দ করছে। শুধু আগের মতো অন্ধ হয়ে কাজ করছি না। চারপাশেরও খেয়াল রাখছি। তা ছাড়া টানা তিন বছর অনেক বেশি কাজ করার পর বুঝতে পারলাম, শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এখন সামান্য কাজ করলেও অনেক ক্লান্ত লাগে। এত বেশি চাপ নেওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। তাই নিজের স্বাস্থ্যের কথাও ভাবতে হচ্ছে। সব মিলিয়েই কাজ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছি।
অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন?
হ্যাঁ, একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য অভিনয়ের ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়েছি। নতুন কাজে অনেক সময় দিতে হচ্ছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। শিগগিরই বড় একটি ঘোষণা দেব। তখন সবাই এটি জানতে পারবেন। আপাতত এটুকু বলতে পারি, এটাই আমার কাজ কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম বড় কারণ। আপাতত ১৫ থেকে ২০ দিনের মতো বিরতি নিচ্ছি। এরপর আবার শুটিং শুরু করব।
অভিনয় থেকে ব্যবসায় ঝোঁকার কারণ কী?
অভিনয় তো সারা জীবনের পেশা নয়। একটা সময় বিয়ে, সংসার ও সন্তান হবে। তখন তো পরিবারকে সময় দিতে হবে। আমাদের দেশে অভিনয় করে সারা জীবন নিশ্চিন্তে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি থাকে না। বিদেশে অনেক শিল্পী এক-দুটি কাজ করেই এমন পারিশ্রমিক পান, যা দিয়ে দীর্ঘ সময় চলা সম্ভব। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখন থেকেই বিকল্প কিছু তৈরির চেষ্টা করছি। যখন ক্যারিয়ার ভালো অবস্থায় থাকে, তখনই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে রাখা উচিত বলে আমার অভিমত।
আপনার অনেক সিনিয়র শিল্পী একসময় কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এটি কীভাবে দেখেন?
এটি খুবই স্বাভাবিক। একজন শিল্পী সারা জীবন একই গতিতে কাজ করতে পারেন না। ইচ্ছা করলে হয়তো করা সম্ভব; কিন্তু সবসময় একই ধরনের কাজ করতে থাকলে নিজেরও একঘেয়েমি আসে, কাজের মূল্যও কমে যায়। তাই একসময় নিজের, পরিবার এবং নতুন কিছু করার জন্য সময় বের করা প্রয়োজন বলে আমিও মনে করি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তখন আপনার এই ভ্রমণ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল...
বিষয়টি একেবারেই পারিবারিক। আমার বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সে অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার স্বামী সামরিক বাহিনীতে চাকরি করেন। দায়িত্বের কারণে তাকে প্রায়ই বিভিন্ন মিশনে যেতে হয়। ফলে আমার বোনকে অনেক সময় একাই থাকতে হয়। আমার কাছে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বোনের পাশে থাকার জন্যই আমাকে কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়েছে। ডিসেম্বরের দিকে আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে। আমার ভাগনির বয়স এখন প্রায় ছয় মাস। ওকে এখনো ভালোভাবে দেখা হয়নি। ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ওদের পক্ষে এত দূরের ভ্রমণ করা সহজ নয়। তাই আমি নিজেই গিয়ে কিছুদিন ওদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই।
ব্যক্তিজীবনে থিতু হওয়ার বিষয়ে কী ভাবছেন?
বয়স তো বাড়ছেই। জীবনের সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে এগোবে। তবে এ মুহূর্তে বিয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে চাই না। সময় হলে সবাই জানতে পারবেন।




