করপোরেট চাকরির ব্যস্ততার ফাঁকে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পোস্টারের কোলাজ
করপোরেট চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও সিনেমা বানানোর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কয়েকজন তরুণ। সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় ফ্রেন্ডলি নেইবারহুড ফিল্মমেকার্স (এফএনএফ) উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে অল্প পরিসরে ও স্বল্প খরচে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন একজন করে মোট ১০ জন নির্মাতা। গত বছর ৩০ মে প্রদর্শিত হয় এগুলো। সেই প্রদর্শনীর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো উন্মুক্ত হলো ইউটিউবে।
গত ২৭ মে ফেসবুকে এফএনএফ পেজে একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘পেটের খিদে মেটাতে কালাভুনা, মেজবানি আর রেজালা তো অনেক খেলেন, এবার না হয় মনের খিদেটাও মেটানো যাক!’
ইউটিউবে এফএনএফ: ফ্রেন্ডলি নেইবারহুড ফিল্মমেকার্স চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১০টি। এগুলো হলো– জাহিদুল হক অপুর ‘হুদাই মিস’ (৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড), ইবনে নূর রাকিব পরিচালিত ‘হামাংকুলাস’ (৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ড), আদেল ইমাম অনুপের ’সোলমেট’ (৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড), শেখ কোরাশানী পরিচালিত ‘চা চাই’ (৬ মিনিট ৫ সেকেন্ড), আল-আমিন হাসান নির্ঝরের ‘তেলাপোকা’ (৫ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড), মাহমুদা সুলতানা রীমা পরিচালিত বাংলাদেশি ফোক হরর ঘরানার ‘লোক’ (৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড), কনক খন্দকারের ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ (৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড), ফজলে রাব্বি পরিচালিত ও রিজভী রিজু অভিনীত ‘ফর সেল’ (৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ড), ইমতিয়াজ হোসেন পরিচালিত ও সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি অভিনীত ‘অন দ্যা কন্ট্রারি’ (১৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ড) এবং রোমান্টিক গল্প নিয়ে আবীর ফেরদৌস মুখর পরিচালিত ‘ইশপাইট’ (৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড)। এর মধ্যে ‘লোক’ এবং একটি জুতার পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলা গল্প নিয়ে নির্মিত ‘সোলমেট’ একাধিক বিদেশি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
একজন কর্পোরেট চাকরিজীবী আর জ্বীনের দেখা হওয়ার গল্প নির্মিত ‘হুদাই মিস’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা জাহিদুল হক অপু বলেন, ‘এফএনএফ প্ল্যাটফর্মে ২০ জনের মতো সদস্য আছে, যাদের একই স্বপ্ন। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন নির্মাণ করেছেন আর বাকিরা কাজ করেছেন ক্যামেরার সামনে ও পেছনে। এটা ছিল আমাদের প্রথম মৌসুম। এখন আমরা দ্বিতীয় মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এবার আরও নতুন নির্মাতা আসবেন। আমরা সবাই যার যার জায়গা থেকে ভ্যালু অ্যাড করার মাধ্যমে সিনেমাগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি।’
শেখ কোরাশানী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল স্বল্প বাজেটে সিনেমা নির্মাণ। সেটাই আমরা প্রথম মৌসুমে করেছি। আমরা এই প্র্যাকটিস করতে থাকব। পাশাপাশি কীভাবে আরও পেশাদার কাজ করা যায়, সেই চেষ্টাও থাকবে।’
নির্মাতাদের আশা, এই উদ্যোগ নতুন নির্মাতাদের স্বল্প পরিসরেও গল্প বলার সাহস জোগাবে।




