জামিন নিতে আদালতে চিত্রনায়িকা পরীমনি

জামিন নিতে আদালতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। গাড়িতেই তিনি বসে আছেন। তাকে ঘিরে রেখেছেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা ছবি: আগামীর সময়
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জামিন নিতে আদালতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গাড়ি নিয়ে আসেন তিনি।
এরপর থেকেই এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি গাড়িতেই অবস্থান করছেন। তাকে ঘিরে রেখেছেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে হবে মামলার শুনানি।
মারধর, ভাংচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চার বছর আগে সাভার থানায় মামলাটি করেন উত্তরার ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন।
এর আগে নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন পরীমনি। সেই মামলার বিচার চলছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।
নাসিরের করা মামলায় গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত কারণে পরীমনি অসুস্থ। এই কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
তিনি বলেন, আসামি পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত পরীমনির আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে ওই দিন হাজির না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল পরীমনির বিরুদ্ধে। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
২০২১ সালের ৮ জুন রাতে পরীমনি বোট ক্লাবে যাওয়ার পর এই ঘটনার সূত্রপাত। এই চিত্রনায়িকা কয়েকদিন পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দাবি করেন, ওই রাতে তাকে বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার পাশাপাশি মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।
এরপর ১৩ জুন পরীমনি মামলা করলে নাসির গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
একই ঘটনায় পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলা করেন নাসির। তার অভিযোগ, পরীমনি বোট ক্লাবে গিয়ে তাকে মারধর ও হুমকি দিয়েছিলেন।
এই মামলার তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন ঢাকা জেলার পিবিআই পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। তাতে পরীমনি এবং তার সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে পরীমনি অসৎ উদ্দেশ্যে বাদী নাসির মাহমুদকে ফাঁদে ফেলে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে ঢাকা বোট ক্লাবের নিয়ম উপেক্ষা করে বিনা মূল্যে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের পার্সেল নিতে না পেরে বাদীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন। পরীমনি বাদীর দিকে অ্যাশট্রে ছুড়ে মেরে তার ডান কানের ওপর মাথায় আঘাত করেন। এছাড়া ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালান।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বারের ভেতরে তাণ্ডবে বাধা দিলে জুনায়েদ বোগদাদী জিমি তেড়ে এসে বাদী নাসির মাহমুদকে কিল-ঘুষি মারেন।




