এমি জয়ী পরিচালক জেমস বারোজ প্রয়াত

জেমস বারোজ
আজকের ওটিটি বা নেটফ্লিক্সের যুগে আমরা যে সিটকম সিরিজগুলো দেখে বড় হয়েছি, তার ব্যাকবোন বা মেরুদণ্ড তৈরি করেছিলেন যে মানুষটি, তিনি হলেন জেমস বারোজ ।
‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের সেই বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্ক ক্যাফের সোফায় বসে ছয় বন্ধুর আড্ডা কিংবা ‘দ্য বিগ ব্যাং থিওরি’-র শেলডন কুপারের অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা পর্দায় স্ক্রিপ্ট পড়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের ভেতরের কমিক টাইমিং বা হাসির জাদুকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করার কাজটি এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন জিমি।
২০২৬ সালের জুনে, ৮৫ বছর বয়সে তার এই বিদায় হলিউডের টেলিভিশন ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটাল।
হলিউডে কোনো পরিচালকের জন্য হাজারের বেশি লাইভ-অডিয়েন্স ও মাল্টি-ক্যামেরা পর্ব পরিচালনা করা একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড, যা জিমির ছিল। আশির দশকে ‘চিয়ার্স’ দিয়ে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে ‘ফ্রেন্ডস’-এর প্রথম সিজনের পাইলট এপিসোডসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পর্ব পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
জিমির একটা বিশেষ ক্ষমতা ছিল, তিনি জানতেন লাইভ স্টুডিওতে দর্শকেরা কোন ডায়লগে হাসবেন আর কোনটায় হাসবেন না। ‘ফ্রেন্ডস’ তারকা লিসা কুড্রো থেকে শুরু করে জেনিফার অ্যানিস্টনরা বহু সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, জিমি বারোজ না থাকলে ‘ফ্রেন্ডস’ আজকের এই গ্লোবাল কাল্ট স্ট্যাটাস পেত না।
পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে বহুবার অস্কার বা এমি মঞ্চে রাজত্ব করেছেন জিমি। মোট ১১ বার প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জেতা এই মেকারকে ২০১৫ সালে ডিরেক্টরস গিল্ড অফ আমেরিকা আজীবন সম্মাননা দেয়।
হলিউডের কাস্টিং ডিরেক্টরদের মতে, জিমি কেবল একজন ডিরেক্টর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘অ্যাক্টর্স ডিরেক্টর’। নতুন ও তরুণ কলাকুশলীদের সাথে তিনি যেভাবে ঠাট্টা-তামাশা করে ফ্লোর হালকা রাখতেন, তা ছিল অনুকরণীয়।
জেমস বারোজ হয়তো সশরীরে চলে গেছেন, কিন্তু যখনই টিভির পর্দায় রস বা র্যাচেলের কোনো কমিক ড্রামা কিংবা চিয়ার্স বারের সেই চেনা সুর বেজে উঠবে— ড্রয়িংরুমের সেই হাসির শব্দে জেমস বারোজ বেঁচে থাকবেন আজীবন।





