‘মিশন: ইমপসিবল’ ৩০

১৯৯৬ সালের ২২ মে মুক্তি পায় প্রথম ‘মিশন: ইমপসিবল’। সেদিন ইথান ম্যাথু হান্ট রূপে বড় পর্দায় প্রথমবার হাজির হন হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ। সেই থেকে রহস্য-রোমাঞ্চকর একের পর এক গল্পে রাষ্ট্র ও পৃথিবীকে অবিশ্বাস্য সব বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাকে সহযোগিতা করেছে লুথার (ভিং র্যামেস) ও বেনজির (সাইমন পেগ) মতো আধুনিক ও তুখোড় বুদ্ধিদীপ্ত গোয়েন্দারা। শুধুই সহকর্মী নয়, তারা হয়ে ওঠে বন্ধু। তাদের নিয়েই গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের কাল্পনিক গুপ্তচর সংস্থা ‘আইএমএফ’ তথা ‘ইমপসিবল মিশন ফোর্স’। সিআইএর মতো সংস্থা যেসব রহস্য ভেদ করতে পারে না, ‘এমআই সিক্স’ যে সন্ত্রাসবাদীদের বাগে আনতে পারে না; এমন যেসব মিশন সফল হওয়ার কোনো আশা নেই, অসম্ভবের দুনিয়ায় সেগুলোকে সম্ভব করে তুলতে ‘আইএমএফ’ ও ইথান হান্টের ওপর ঠিকই ভরসা রাখা যায়। নিজেদের দক্ষতায় কখনো ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী সংস্থার পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে তারা। আবার জীবন বাজি রেখে পারমাণবিক হামলার মতো ঘটনাও রুখে দিয়েছে।
পৃথিবী বাঁচানোর কাজ নেহাত সোজা নয়! দুঃসাহসী কীর্তিকলাপের জন্য অপ্রতিরোধ্য ইথান হান্ট চলন্ত বিমানের ডানায় চেপে উদ্ধার করতে পারে বিস্ফোরকভর্তি কুরিয়ার। আবার তিন মিনিটের বেশি সময় পানির নিচে শ্বাস বন্ধ করে বদলে দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ মেমোরি চিপ। আবার হেলিকপ্টারে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে প্লুটোনিয়ামের বোমা নিষ্ক্রিয় করা তার বাঁ হাতের খেলা। লোকটার গতির সঙ্গে পাল্লা দেয় সাধ্য কার! কিছু দৃশ্য দেখে দর্শকের প্রাণ ধড়ফড় করে উঠেছে। অ্যাকশন দৃশ্যকে বাস্তবসম্মত করতে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা থেকে ঝাঁপ দেওয়া, কখনো বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ার মতো গায়ে কাঁটা দেওয়া অ্যাকশন দৃশ্যের স্টান্ট নিজেই করেছেন টম ক্রুজ। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঝাঁপাতে গিয়ে দেয়ালে সজোরে আঘাত লেগে পায়ের গোড়ালি মচকেছেন তিনি।
১৯৬৬ সালের টেলিভিশন সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তির পর পেরিয়ে গেছে গুনে গুনে ৩০ বছর। প্রথম সিনেমা অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়ার সুবাদে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রূপ নেয় ‘মিশন: ইমপসিবল’। ‘ইয়োর মিশন, শুড ইউ চুজ টু অ্যাক্সেপ্ট ইট...’— এভাবেই শুরু হয়ে এসেছে এই সিরিজের সব মুভি। গত তিন দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত এর আটটি কিস্তির প্রতিটি দুরন্ত অ্যাকশন থ্রিলারে ঠাসা। এগুলো হলো– ‘মিশন: ইমপসিবল টু’ (২০০০), ‘মিশন: ইমপসিবল থ্রি’ (২০০৬), ‘মিশন: ইমপসিবল— গোস্ট প্রটোকল’ (২০১১), ‘মিশন: ইমপসিবল— রোগ নেশন’ (২০১৫), ‘মিশন: ইমপসিবল— ফলআউট’ (২০১৮), ‘মিশন: ইমপসিবল— ডেড রেকোনিং পার্ট ওয়ান’ (২০২৩) এবং ‘মিশন: ইমপসিবল— ডেড রেকোনিং পার্ট ওয়ান’ (২০২৫)। প্রথম চারটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন যথাক্রমে ব্রায়ান ডি পালমা, জন উ, জে জে আব্রামস ও ব্র্যাড বার্ড। সর্বশেষ চারটি কিস্তি পরিচালনা করেছেন ক্রিস্টোফার ম্যাককোয়ারি।
৮ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ‘মিশন ইমপসিবল’ আয় করেছে ৪৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। পরের পর্বগুলো আয় করেছে যথাক্রমে ৫৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, ৭১ কোটি ৯ লাখ ডলার, ৭৯ কোটি ১১ লাখ ডলার, ৫৭ কোটি ১১ লাখ ডলার এবং ৫৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। সব িমলিয়ে অঙ্কটা ৪৩৫ কোটি ডলার। সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ফ্র্যাঞ্চাইজির তালিকায় ১৬ নম্বরে রয়েছে এটি। ২০২৪ সালের অস্কারে সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও সেরা শব্দ বিভাগে মনোনয়ন পায় ‘মিশন: ইমপসিবল– ডেড রেকোনিং পার্ট ওয়ান’।
‘জেমস বন্ড’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’, ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির ভিড়ে নিজস্বতা বজায় রাখা খুব একটা সহজ নয়। বিশেষ করে অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা হওয়ায় তুমুল প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে ‘মিশন: ইমপসিবল’কে। গল্পের প্রাসঙ্গিকতা, দারুণ চরিত্রায়ন, চিত্রনাট্যের মজবুত গাঁথুনি, অ্যাকশন ও আবেগের ভারসাম্য, অনবদ্য সংলাপের সুবাদে বছরের পর বছর দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছে সিনেমাগুলো। অ্যাকশনে ভরপুর সিরিজটির আবহসংগীত প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের মনে রোমাঞ্চ জাগিয়েছে। মুভিগুলোতে রয়েছে ষাটের দশকের টিভি সিরিজের জন্য আর্জেন্টাইন-আমেরিকান পিয়ানোবাদক লালো শ্রিফিনের বাঁধা ‘মিশন: ইমপসিবল থিম মিউজিক’।
‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের ৮ সিনেমা
• ‘মিশন ইমপসিবল’ (১৯৯৬)
• ‘মিশন: ইমপসিবল টু’ (২০০০)
• ‘মিশন: ইমপসিবল থ্রি’ (২০০৬)
• ‘মিশন: ইমপসিবল— গোস্ট প্রটোকল’ (২০১১)
• ‘মিশন: ইমপসিবল— রোগ নেশন’ (২০১৫)
• ‘মিশন: ইমপসিবল— ফলআউট’ (২০১৮)
• ‘মিশন: ইমপসিবল— ডেড রেকোনিং পার্ট ওয়ান’ (২০২৩)
• ‘মিশন: ইমপসিবল— ডেড রেকোনিং পার্ট ওয়ান’ (২০২৫)


