ফ্যাশন সাংবাদিকদের নিয়ে সাড়া জাগানো সেই ছবির সিক্যুয়েল ২০ বছর পর

(বাঁ থেকে) অ্যান হ্যাথাওয়ে, মেরিল স্ট্রিপ ও এমিলি ব্লান্ট (ছবি: টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স)
হলিউডের কমেডি ড্রামা ধাঁচের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ ২০০৬ সালে বক্স অফিস কাঁপিয়েছিল। ফলে ডেভিড ফ্রাঙ্কেল পরিচালিত ছবিটির সিক্যুয়েল তৈরি হওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মাঝে কেটে গেছে দুই দশক! শুক্রবার (১ মে) টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি স্টুডিওসের পরিবেশনায় বড় পর্দায় আসছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আন্তর্জাতিক মুক্তির দিন থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় চালানো হবে বহুল প্রতীক্ষিত ছবিটি।
আমেরিকান কথাসাহিত্যিক লরেন ওয়েইসবার্গারের ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ উপন্যাস অবলম্বনে মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে নির্মিত আগের ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করে ৩২ কোটি ৭০ ডলারের মতো। এমন অভাবনীয় সাফল্যের পরও এত বছর সিক্যুয়েল না আসায় হতাশ ছিলেন অনেকে। অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
নতুন ছবিটি পরিচালনা করেছেন যথারীতি ডেভিড ফ্রাঙ্কেল। চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় চলচ্চিত্র ভাবা হচ্ছে এটিকে। এর প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের তিন তারকা মেরিল স্ট্রিপ, অ্যান হ্যাথাওয়ে ও এমিলি ব্লান্ট। এছাড়া আছেন স্ট্যানলি টুসি, জাস্টিন থেরাক্স, কেনেথ ব্রানা, ট্রেসি থমাস প্রমুখ।
‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’য় ফ্যাশনের চাকচিক্য, সাংবাদিকদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যের নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটেছিল। ছবিটি একদিকে যেমন নারীর পেশাগত সংগ্রাম তুলে ধরেছে, অন্যদিকে করপোরেট জগতের অনেক মুখোশ উন্মোচন করেছে। এতে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্রে অভিনয়ের সময় তিনটি অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের বয়স ছিল ৫৬ বছর। ছবিটির জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
এবার ম্যাগাজিনের সম্পাদক হিসেবে মেরিল স্ট্রিপ আরও পরিণত। গল্পে তার ব্যক্তিগত সহকারী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাংবাদিক অ্যান্ডি স্যাক্স চরিত্রে অভিনয় করা অ্যান হ্যাথাওয়ের বয়স ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ২৩ বছর। নিষ্ঠুর সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলির অনেক অপমানজনক আচরণ সে মুখ বুজে সহ্য করে যায় শুধু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়। এভাবে কাজ করতে করতে একদিন আরেক জাঁদরেল সাংবাদিক এমিলিকে ছাড়িয়ে যায় অ্যান্ডি।
১০ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত নতুন ছবির গল্পে অ্যান্ডির পদোন্নতি দেখা যাবে। ফিচার সম্পাদক পদ পেয়েছে সে। তাকে উপহাস করতে থাকা এমিলি সিক্যুয়েলে তিরস্কারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। মজার ব্যাপার হলো, ছবিতে পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে ওঠা অ্যান্ডি ও এমিলি সমবয়সী। এ কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও জমজমাট হয়ে ওঠে, যা কখনো কখনো হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পেশার বাইরে ব্যক্তিজীবন উপভোগের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে লেগে থাকে বিবাদ।
প্রায় দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে অ্যান হ্যাথাওয়ে ও এমিলি ব্লান্টের ভিলেন বসের বিষাক্ততা নিয়ে দারুণ আলোচনা চলছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, ৭৬ বছর বয়সে এসে মেরিল স্ট্রিপ কি আগের সেই মেজাজ প্রদর্শনে সফল হবেন? অ্যান ও এমিলি কি মাঝ বয়সে এসে আগের সেই খুনসুটি আরও আকর্ষণীয় করে দেখাতে পারবেন? সব মিলিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই দর্শকদের। আশা করা হচ্ছে, আগের ছবির মতো এটিও দর্শকদের মন জয় করবে।




