হেয়ারস্টাইলে উত্থান, শেষ পর্যন্ত সেটিই ক্যারিয়ার ধ্বংস করল এই অভিনেত্রীর

ভেরোনিকা লেক
হলিউডের ইতিহাসে কত অদ্ভুত কারণেই না তারকাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু কেবলমাত্র একটি হেয়ারস্টাইলের কারণে কোনো সুপারস্টারের ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন ঘটনা বোধহয় ইতিহাসেই বিরল।
১৯৪০-এর দশকের আমেরিকার অবিকল্প ক্রাশ ও হলিউড সেনসেশন ভেরোনিকা লেকের জীবনে ঘটেছিল ঠিক এমনটাই।
আজ এই অভিনেত্রীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার সেই ট্রাজিক জীবনের গল্প। যে চুল তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল, সেই চুল কাটার পরই হলিউড থেকে চিরতরে হারিয়ে যান তিনি।
১৯৪১ সালে ‘আই ওয়ান্টেড উইংস’ সিনেমা দিয়ে যখন ভেরোনিকা লেক পর্দায় আসেন, তখন তার ডান চোখের ওপর লেপ্টে থাকা সোনালি চুলের ঢেউ দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিল পুরো আমেরিকা। মুখের একপাশ ঢেকে রাখা চুলের এই স্টাইলটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পিক-আ-বু’।
মজার ব্যাপার হলো, এই লুকটি কিন্তু পরিকল্পিত ছিল না। শুটিংয়ের সময় হঠাৎ এক গোছা চুল ভেরোনিকার চোখের ওপর এসে পড়লে পরিচালক তাতেই শট নেন এবং এটাই ইতিহাস হয়ে যায়।
তৎকালীন আমেরিকার লাখ লাখ তরুণী ভেরোনিকার এই স্টাইল নকল করে চুলে ঢেউ খেলাতে শুরু করেন।
ভেরোনিকার এই হেয়ারস্টাইল যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, ঠিক তখনই শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। পুরুষরা যুদ্ধে চলে যাওয়ায় আমেরিকার লাখ লাখ নারী তখন কলকারখানায় ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর কাজে যোগ দেন। আর এখানেই বাঁধে বিপত্তি।
ভেরোনিকা লেককে নকল করে নারীরা চুল খোলা রাখায়, কলকারখানার ড্রিল মেশিন ও ভারী যন্ত্রে চুল আটকে গিয়ে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খোদ মার্কিন সরকার ভেরোনিকার দ্বারস্থ হয়। দেশের স্বার্থে এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকার তাকে অনুরোধ করে তিনি যেন তার এই হেয়ারস্টাইল বদলে ফেলেন। দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে ভেরোনিকা রাজি হন।
মেশিনে চুল আটকে গেলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা দেখাতে তিনি একটি সচেতনতামূলক ফটোশুটেও অংশ নেন এবং নিজের সেই সাধের লম্বা চুল কেটে ছোট করে ফেলেন।
দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে ভেরোনিকা নিজের চুল তো কাটলেন, কিন্তু সেটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। চুল কাটার পর দর্শকরা যেন ভেরোনিকার ভেতরের সেই চেনা গ্ল্যামার আর খুঁজে পাচ্ছিলেন না। প্রযোজনা সংস্থাগুলোও তার এই নতুন রূপকে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করতে ব্যর্থ হয়।
ফল যা হওয়ার তাই হলো; রাতারাতি কমতে শুরু করল ভেরোনিকার জনপ্রিয়তা। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে কোটি হৃদয়ের রানি ভেরোনিকা লেক হলিউডের এক কোণায় অবহেলিত হয়ে পড়েন।
ফ্যাশন দুনিয়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে—‘চুলই নারীর আসল সৌন্দর্য’। কিন্তু ভেরোনিকা লেকের গল্পটা একটু আলাদা।
ফ্যাশনের একটা রূপান্তর কীভাবে একটি দেশের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং দেশের জন্য নিজের আইডেন্টিটি বিসর্জন দিয়ে একজন তারকাকে কতটা চড়া ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হতে পারে, ভেরোনিকা লেক তার এক জীবন্ত ও করুণ ইতিহাস।








