ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন ক্লুনি

ক্লুনি ও ট্রাম্প (বাম থেকে)
দুইবার অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করে ক্লুনি একে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার শুরু, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’ পরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, তার এই হুমকির ভাষা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান জর্জ ক্লুনি।
ইতালির কুনেও শহরে বুধবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সামনে তিনি বললেন, ‘অনেকে বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক আছেন। কিন্তু কেউ যদি বলেন তিনি একটি সভ্যতা শেষ করতে চান, তাহলে সেটি যুদ্ধাপরাধ।’
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিনেতা বলেছেন, ‘আপনি রক্ষণশীল মতাদর্শকে সমর্থন করতেই পারেন, কিন্তু অশালীনতার একটা সীমা থাকা দরকার, যা অতিক্রম করা উচিত নয়।’
এর আগে ইতালিতে দেওয়া আরেক বক্তব্যে ক্লুনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে ফেলেন। তার এই মন্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং কটাক্ষ করে বললেন, ‘যুদ্ধাপরাধ করছে একমাত্র জর্জ ক্লুনি, তার বাজে সিনেমা আর দুর্বল অভিনয়ের মাধ্যমে।’
এর জবাবে ডেডলাইনকে দেওয়া বিবৃতিতে ক্লুনি বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জন হারাচ্ছে। শিশুরা পুড়ে মারা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে। এটি এমন সময়, যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে গঠনমূলক বিতর্ক প্রয়োজন, শিশুসুলভ অপমান নয়।’
যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি এই অভিনেতা ব্যখ্যা করেন এভাবেই “গণহত্যা কনভেনশন ও রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী, কোনো জাতিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য থাকলে সেটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা কী? আমাকে ব্যর্থ অভিনেতা বলা ছাড়া তাদের আর কী যুক্তি আছে? যা আমি নিজেই হাসিমুখে স্বীকার করি, বিশেষ করে ‘ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন’ ছবিতে অভিনয়ের পর!”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে ক্লুনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ‘আমি ন্যাটো নিয়ে চিন্তিত। এটি শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রেখেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার চিন্তা আমাকে উদ্বিগ্ন করে। ভুলত্রুটি থাকলেও, ন্যাটোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অনেক অসাধারণ কাজ করেছে, যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান যুদ্ধে জড়াতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন-যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।’
ইতালিতে এই অনুষ্ঠানে ক্লুনি শুরুতে ইতালীয় ভাষায় ‘বুয়োনজর্নো’ বলে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। পরে নিজের ইতালীয় ভাষার দুর্বলতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। তবে মজার ছলে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বললেন, ‘আমি কিন্তু ইতালীয় বুঝি, তাই কী বলছো খেয়াল রেখো!’
জর্জ ক্লুনি ও তার স্ত্রী আমাল ক্লুনির প্রতিষ্ঠিত ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছে। ক্যারিয়ারে জর্জ ক্লুনি ২০০৬ সালে ‘সিরিয়ানা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতেছেন। এ ছাড়া ‘আর্গো’ সিনেমার প্রযোজক হিসেবে সেরা চলচ্চিত্রের অস্কারও অর্জন করেন। তার ঝুলিতে রয়েছে মোট আটটি অস্কার মনোনয়ন।
সূত্র: ডেডলাইন



