মাতৃত্ব আর ক্যারিয়ারের শীর্ষে অ্যান হ্যাথাওয়ে

অ্যান হ্যাথাওয়ে
হলিউডের সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন অ্যান হ্যাথাওয়ে। ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’ দিয়ে ২০০০-এর দশকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে ৪৩ বছর বয়সেও তা সমান দীপ্তিময়।
তবে এবার তিনি আলোচনায় এক ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে। গত কাল তার পোস্ট করা রিলটি মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মিলিয়ন মিলিয়ন লাইক কুড়িয়েছে। কারণ, এই রিলের মাধ্যমেই অ্যান নিজের মাতৃত্বের খবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
২০২৬ সালটি পেশাগতভাবে অ্যানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছর। তিনি এই বছরই শুটিং শেষ করেছেন ক্রিস্টোফার নোলানের এপিক সায়েন্স-ফিকশন ড্রামা ‘দ্য ওডিসি’-র, যেখানে ম্যাট ডেমনের বিপরীতে তিনি ওডিসিয়াসের স্ত্রী ‘পেনেলোপ’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এর পাশাপাশি গত এপ্রিল মাসে লন্ডনে প্রিমিয়ার হওয়া ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’-এ মিরান্ডা প্রিস্টলি ও এমিলি ব্লান্টের সাথে তার পুনর্মিলনী বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।
এই চরম ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই সন্তানসম্ভবা হওয়া প্রমাণ করে যে, পর্দার পেছনে তার স্বামী অ্যাডাম শুলম্যান একজন ‘পারফেক্ট পার্টনার’ হিসেবে কতটা চমৎকারভাবে পুরো পরিবারকে সামলে রাখছেন।
আজকে অ্যানের এই মাতৃত্বের আনন্দ যতটা সহজ দেখাচ্ছে, তার অতীতের পথটা ততটা মসৃণ ছিল না। ২০২৪ সালের ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ কভার স্টোরিতে অ্যান প্রথমবার খোলসা করেছিলেন যে, ২০১৫ সালে প্রথম সন্তান জোনাথনের জন্মের আগে তিনি একটি মারাত্মক গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন।
মজার বিষয় হলো, তখন থিয়েটারে তার যে চরিত্রটি ছিল, তাকে প্রতি রাতে মঞ্চে প্রসবের অভিনয় করতে হতো। সেই মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার পর ২০১৯ সালে যখন দ্বিতীয় সন্তান জ্যাকের জন্ম হয়, তখনও তিনি ইনফার্টিলিটি বা সন্তান ধারণের সমস্যায় ভোগা নারীদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। ফলে তার এই তৃতীয় গর্ভাবস্থা তার ভক্ত ও ‘সিস্টারহুড’-এর কাছে এক পরম পাওয়ার মতো।
‘লেসেরাবল’ ছবির জন্য অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীর জীবনের মূল নোঙর হলো তার পরিবার। অ্যানের দশ ও ছয় বছর বয়সী দুই ছেলে জোনাথন ও জ্যাককে নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির ছিমছাম জীবনে তিনি সাধারণ মায়েদের মতোই সময় কাটান।
‘এল’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার সেই রসাত্মক মন্তব্য, ‘সারা পৃথিবী পুড়তে থাকলেও আমার দারুণ সময় কাটছে’, মূলত আজকের জটিল পৃথিবীর মানসিক চাপ থেকে দূরে তার পারিবারিক সুখের গভীরতাকেই নির্দেশ করে।





