নিখুঁত হওয়া কখনোই সম্ভব নয়

আমান্ডা সাইফ্রেড
আমেরিকান অভিনেত্রী আমান্ডা সাইফ্রেডের অন্যতম সেরা কাজ ভাবা হয় ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’ (২০২৫)। মোনা ফাস্টফল্ডের পরিচালনায় এতে আঠারো শতকে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় আন্দোলন শেকারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান লির চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
হাই, আমান্ডা!
হেই!
আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।
আপনার সঙ্গেও দেখা হয়ে ভালো লাগছে।
‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’র চিত্রনাট্য প্রথমবার পুরোটা পড়ার পর অ্যান লির কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল?
স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক সত্যিই অবাক করার মতো। আমাকে অবাক করেছে, তিনি স্বামীর প্রতি কতটা নিবেদিত ছিলেন এবং তারা দুজন স্পষ্টতই একই অবস্থানে না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেই সম্পর্ক ধরে রেখেছিলেন। আপনি জানেন, শেকার আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন নারীরা পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু তারা দুজনই বুঝতে পেরেছিলেন, অ্যান আর তার স্বামীর সম্পত্তি নন। তারপরও স্বামী এত দীর্ঘ সময় তার পাশে ছিলেন। যদিও তাদের মধ্যে আর কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সম্ভব ছিল না। তবে স্বামীর প্রতি অ্যানের এই নিবেদন আমার কাছে ভীষণ সুন্দর লেগেছে। আমার মনে হয়, এর মাধ্যমে বোঝা যায় তিনি সবাইকে একইভাবে ভালোবাসতেন। তার কাছে সবাই ছিল সন্তানসম। সেই মমতাকে তিনি বৃহত্তর আঙ্গিকে রূপ দিতে পেরেছিলেন, সেটিও খুব আকর্ষণীয়। মানে, একজন নারী এবং একজন নেতা হিসেবে তিনি যে এমন একটি আদর্শ সমাজ তৈরি করতে পেরেছিলেন, সেটাই আমাকে অবাক করে। তার মতো আর কোনো নেতা সেখানে ছিল না; তবু তিনি বিপুলসংখ্যক অনুসারী তৈরি করেছিলেন। যখন ধর্মীয় নেতাদের প্রায় সবাই ছিলেন পুরুষ এবং চারদিকে নানা ধরনের নতুন ধর্মীয় আন্দোলন গড়ে উঠছিল, সেই সময়কার পৃথিবীর কথা ভাবলে এসব বিষয় সত্যিই অবিশ্বাস্য।
আর কী ভেবে অবাক লেগেছে?
২০২৫ সালেও শেকাররা টিকে আছে— আমার কাছে এটা ভীষণ অবাক করার মতো। ভাবতেই চমকে যাই, এসবের শুরু একজন নারীর হাত ধরে। একই সঙ্গে আমি পুরোপুরি বিস্মিতও নই। আগেও বলেছি, অবাক হওয়ার পাশাপাশি মনে হয়েছে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু অবাক লাগে এই ভেবে, তাকে এত কিছু সহ্য করতে হয়েছিল। বারবার ভেঙে পড়েও, নির্যাতিত ও মারধরের শিকার হয়েও, এমনকি তাকে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলেও, তিনি আবার উঠে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ‘সব ঠিক আছে।’ যদিও এসব ঘটনা আমরা চলচ্চিত্রে দেখাইনি, কারণ সেগুলো ছিল অতিরিক্ত নির্মম। তার স্বামী শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, এটা হৃদয়বিদারক। কারণ তাদের সম্পর্ক সত্যিই সুন্দর ছিল।
অ্যান লির চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজের সম্পর্কে এমন কী শিখেছেন, যা আগে প্রত্যাশা করেননি?
আমি যে এতটা বদলে যেতে পারব, ভাবিনি। কদিন ধরে একটা কথা বলছি, এই সিনেমার আগে আমি যেমন সংগীতশিল্পী ছিলাম, এখন আর তেমনটি নেই। আমার অহংবোধের একটা অংশ, আমার শোনার ধরন— সবকিছু যেন বদলে গেছে। এখন আর নিজের কণ্ঠ কেমন শোনাচ্ছে, তা খেয়াল করি না। বরং যে গান গাইছি বা যা বাজাচ্ছি, সেসব অনুভব করি। একটি মাত্র কাজ, একটি মাত্র চরিত্রের কারণে এত বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে, এটা সত্যিই অসাধারণ! আমার গলা যেমন শোনায়, তা নিয়ে বহুদিন ভীষণ চিন্তিত ছিলাম। সিনেমায় নিজের কণ্ঠ যেমন শোনাত, সেটি নিয়ে অনেক আক্ষেপও ছিল। মজার ব্যাপার হলো, এখন আর সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজেকে নিখুঁত করে তোলার চাহিদা থেকে, সেই নেতিবাচক অনুভূতি থেকে মুক্তি পাওয়া সত্যিই দারুণ। কারণ একটি নির্দিষ্ট অর্থে নিখুঁত হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।
আগামীর সময়কে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ, জনি।
অভিনয়ে তার অভিষেক ১৫ বছর বয়সে। শুরুতে টেলিভিশন সোপ অপেরায় নিয়মিত ছিলেন। ২০০৪ সালে ‘মিন গার্লস’ সিনেমায় ক্যারেন স্মিথ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় সাফল্যের শুরু। বিখ্যাত চলচ্চিত্রের তালিকায় আছে ‘মামা মিয়া!’ (২০০৮), ‘জেনিফার’স বডি’ (২০০৯), ‘ডিয়ার জন’ (২০১০), ‘ইন টাইম (২০১১), ‘লে মিজারাবল’ (২০১২), ‘লাভলেস’ (২০১৩), ‘ফার্স্ট রিফর্মড’ (২০১৭), ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’ (২০২৫), ‘দ্য হাউজমেইড’ (২০২৫)। প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিনীত সিনেমাগুলো বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় ‘ম্যাঙ্ক’ (২০২০) সিনেমায় ম্যারিয়ন ডেভিস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’র জন্য ক্রিটিকস চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রী এবং গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে মিউজিক্যাল বা কমেডি চলচ্চিত্রে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন।
ছোট পর্দায়ও সাইফ্রেডের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। ওয়েব সিরিজের তালিকায় আছে এইচবিওর ‘বিগ লাভ’ (২০০৬-২০১১), অ্যাপল টিভি প্লাসের ‘দ্য ক্রাউডেড রুম’ (২০২৩) এবং পিককের ‘লং ব্রাইট রিভার’ (২০২৫)। হুলুর ‘দ্য ড্রপআউট’ (২০২২) সিরিজে কুখ্যাত উদ্যোক্তা এলিজাবেথ হোমসের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব ও প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারসহ একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।



