সাবেক গৃহকর্মীর মামলায় বিপাকে কাইলি জেনার

কাইলি জেনার
মার্কিন রিয়েলিটি শো তারকা ও বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ব্যবসায়ী কাইলি জেনারের গ্ল্যামারময় জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিকটি এবার প্রকাশ্যে এসেছে। তার বাড়ির সাবেক এক গৃহকর্মী হুয়ানা ডেলগাডো সোটো কাইলির বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে একটি চাঞ্চল্যকর মামলা করেছেন। সোটোর দাবি অনুযায়ী, কাইলির বাড়িতে কাজ করার সময় তাকে নিয়মিত ‘নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে সেখানে কর্মরত থাকলেও মূলত ২০২৩ সালের শেষের দিকে সুপারভাইজার পরিবর্তনের পর থেকেই তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। তাকে দিনের পর দিন পর্যাপ্ত খাবার কিংবা বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা স্পষ্টতই শ্রম আইনের লঙ্ঘন।
তারায় মজেছেন আদিত্য
০৩ মে ২০২৬
মামলার অভিযোগে সোটো আরও উল্লেখ করেছেন, তাকে হতে হয়েছে জাতিগত বিদ্বেষ ও বৈষম্যের শিকার। তার কথা বলার ভঙ্গি বা উচ্চারণ এবং গায়ের রং নিয়ে সুপারভাইজাররা করতেন প্রতিনিয়ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য। এমনকি ভাইয়ের মৃত্যুর মতো কঠিন শোকের সময়েও তাকে কোনো ছুটি দেওয়া হয়নি, বরং কান্নাকাটি করা অবস্থায় তাকে করতে বাধ্য করা হয়েছে অপমানজনক কাজ।
একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে ২০২৫ সালে তিনি সরাসরি কাইলি জেনারকে দেন একটি হাতে লেখা চিঠি। সেখানে তিনি নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘কাইলি হয়তো এসবের কিছুই জানেন না। কিন্তু এর ফল হয় উল্টো; তাকে কাইলির সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয় এবং অভিযোগ তোলার কারণে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাইলি জেনার কিংবা তার প্রতিষ্ঠান ‘কাইলি জেনার ইনকরপোরেটেড’ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তার প্রতিনিধিরা কেবল জানিয়েছেন, মামলার কপিটি তারা এখনো পুরোপুরি পর্যালোচনা করে দেখেননি।
তবে এর আগেও কাইলির অন্য এক কর্মী তার বাড়ির কাজের পরিবেশ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন, যার ফলে এবারের বিষয়টি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী সোটো আদালত থেকে ন্যায়বিচার এবং তার ওপর হওয়া এই অমানবিক আচরণের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
গ্ল্যামার জগতের এই প্রভাবশালী তারকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এখন আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।




