প্রিন্স : ব্যর্থতার দায় কার?

শাকিব খানের ক্যারিয়ারে ‘প্রিয়তমা’, `বরবাদ' বা ‘তুফান’র মতো ব্লকবাস্টার যেমন আছে, তেমনি ‘প্রিন্স’র মতো হোঁচট খাওয়া সিনেমাও থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে একজন স্টারের সিনেমা যখন প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়, তখন তা কেবল একটি সিনেমার ব্যর্থতা থাকে না বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।
শাকিব খান বর্তমানে এমন এক উচ্চতায় আছেন যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল তিনি নিজেই। কিন্তু ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি প্রমাণ করল যে, কেবল ব্র্যান্ড শাকিব খানের ওপর ভর করে দুর্বল নির্মাণ আর অগোছালো চিত্রনাট্য দিয়ে এখনকার দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে আটকে রাখা অসম্ভব।
‘প্রিন্স’ সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এর অতি-পরিচিত ফর্মুলা। দর্শক এখন বিশ্বমানের কনটেন্ট হাতের মুঠোয় পাচ্ছে। সেখানে কেবল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অনুকরণে মারপিট আর স্লো-মোশন এন্ট্রি দিয়ে মন জয় করা কঠিন। শাকিব খানকে দর্শক এখন দেখতে চায় রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে, কেবল অপরাজিত কোনো `সুপারহিউম্যান' হিসেবে নয়। গল্পের গভীরতা না থাকলে অ্যাকশন তখন ক্লান্তিকর মনে হয়।
একটি সিনেমা যখন ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসবে মুক্তি পায়, তখন তার পোস্ট-প্রোডাকশন (সাউন্ড, কালার গ্রেডিং, ভিএফএক্স) হতে হয় নিখুঁত। `প্রিন্স'র ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে কারিগরি ত্রুটির কথা। শাকিব খানের মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা যখন আনকোরা নির্মাতা বা প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করেন, তখন নির্মাণের গুণগত মানের দায়ভার অনেকটা তার ওপরও বর্তায়। বড় পর্দায় টেকনিক্যাল খুঁতগুলো দর্শকের চোখে খুব দ্রুত ধরা পড়ে, যা সিনেমার আমেজ নষ্ট করে দেয়।
শাকিব খান ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন-এটি ঢাকাই সিনেমায় বিরল একটি ঘটনা। এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ আছে। এটি প্রমাণ করে তিনি দর্শকদের ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, যদি ত্রুটিগুলো আগেই জানা ছিল, তবে কেন তাড়াহুড়ো করে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হলো? উৎসবের মৌসুমে হল দখলের রাজনীতির চেয়ে মানসম্পন্ন সিনেমা উপহার দেওয়া কি বেশি জরুরি ছিল না?
‘প্রিন্স’র ব্যর্থতা আমাদের সিনেমা সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি লাল সংকেত। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্টার থাকলেও চিত্রনাট্য দুর্বল হলে সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়বেই। পরিচালক ও প্রযোজকের অভিজ্ঞতা কম থাকলে সেখানে শাকিব খানের মতো বড় তারকার গাইডেন্স বা সঠিক তদারকি প্রয়োজন ছিল। দর্শক এখন ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ইমেজের চেয়ে গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি খোঁজে।
শাকিব খানের শক্তির জায়গা হলো তার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। ‘প্রিন্স’ হয়তো তার ক্যারিয়ারের একটি অনুজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে, কিন্তু এখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা যদি তিনি তার পরবর্তী সিনেমাগুলোতে কাজে লাগাতে পারেন, তবেই এই সমালোচনা সার্থক হবে।

