ঈদের সিনেমায় জমজমাট প্রেক্ষাগৃহ

ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক নতুন সিনেমায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো। দীর্ঘদিন পর সিনেমা হলে দর্শকের এমন ভিড় দেখা যাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্টার সিনেপ্লেক্সসহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে দর্শকের উপচে পড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদের বড় আকর্ষণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত রকস্টার। আজমান রুশো পরিচালিত এই সিনেমাটি সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স মিলিয়ে ১০৫টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সুনিধি নায়েক। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মালিক। এতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ এবং বিদ্যা সিনহা মিম। সাঈফ চন্দন পরিচালিত এই সিনেমাটি ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। অ্যাকশন ও আবেগের মিশ্রণে নির্মিত ছবিটি তরুণ দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
ঈদের আলোচনায় থাকা আরেকটি সিনেমা রইদ। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই সিনেমাটি ১১টি মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শিত হচ্ছে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত এবং আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।
সাহিত্যনির্ভর সিনেমা বনলতা সেন-ও ঈদে মুক্তি পেয়েছে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিনেমাটি ৮টি মাল্টিপ্লেক্সে চলছে। এতে বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা এবং জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে আছেন খায়রুল বাশার। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, ময়মুনা মম এবং শরিফ সিরাজ।
ঈদে আরও মুক্তি পাওয়া মাসুদ রানা, পিনিক, তছনছ এবং অফিসার–ও বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এসব সিনেমা মুক্তির ফলে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে দর্শক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
স্টার সিনেপ্লেক্সসহ দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শকের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি, ‘আর হলে ভেতরে করতালি ও উচ্ছ্বাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শকদের মতে, দীর্ঘদিন পর পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা এবারের ঈদকে আরও আনন্দময় করে তুলেছে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলছেন, ‘আমাদের সকল শাখায় সব বাংলা চলচ্চিত্রই হাউজফুল যাচ্ছে। এ সপ্তাহটা সবাই বাসা থেকে বের হবে, সিনেমা দেখবে আনন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক। এখন উৎসবের সময়, এই উৎসবে মানুষ সিনেমা দেখতে আসছে, খাচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের সকল শাখায় প্রথমদিন থেকেই উপচেপড়া ভিড়।’
‘আমাদের এখানে ঈদে মুক্তি পাওয়া প্রায় সবগুলো বাংলা ছবিই চলছে। সম্ভবত একটা আমাদের এখানে রিলিজ করতে পারিনি। প্রতিটি ছবি মানুষ আগ্রইহ নিয়ে দেখছে। যদিও দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে কোন সিনেমা এগিয়ে থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরের সপ্তাহে সেটা বোঝা যাবে।’
প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে এমন দর্শক উপস্থিতি তাদের জন্য স্বস্তির খবর। নির্মাতারাও মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন গতি আসবে।










