ঈদের ছুটিতে দেখার মতো বলিউডের ৬ কালজয়ী সিনেমা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বলিউড উপহার দিয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র। তবে কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে পুরনো হলেও দর্শকদের আগ্রহ একটুও কমেনি। শক্তিশালী গল্প, অভিনয়, সংগীত এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এসব সিনেমা বারবার দেখলেও নতুন অনুভূতি তৈরি করে।
রোমান্স, ড্রামা, কমেডি কিংবা সামাজিক বার্তা, ভিন্ন স্বাদের দর্শকদের জন্য এখানে রয়েছে বলিউডের পাঁচটি কালজয়ী সিনেমা। ঈদের ছুটিতে দেখে নিতে পারেন এই সিনেমাগুলো। পাওয়া যাবে বিভিন্ন ওটিটি ও ইউটিউবে।
১. থ্রি ইডিয়টস
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সিনেমাগুলোর একটি এটি। পরিচালক রাজকুমার হিরানি নির্মিত এই সিনেমায় শিক্ষাব্যবস্থা, বন্ধুত্ব এবং জীবনের স্বপ্নকে দারুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমির খান, আর মাধবন এবং শর্মান যোশির অভিনয় সিনেমাটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। ‘অল ইজ ওয়েল’ সংলাপটি এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
২. দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে
রোমান্টিক সিনেমার কথা উঠলে এই চলচ্চিত্রের নাম না বললেই নয়। শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত এই সিনেমা নব্বইয়ের দশকে বলিউডে নতুন এক রোমান্টিক যুগের সূচনা করেছিল। ইউরোপ ভ্রমণ থেকে শুরু করে পরিবার ও ভালোবাসার আবেগঘন গল্প দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। মুক্তির বহু বছর পরও সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
৩. লাগান
ক্রিকেট, দেশপ্রেম এবং সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা বলিউডের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ধরা হয়। ঔপনিবেশিক ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে একদল গ্রামবাসী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামে নিজেদের কর মওকুফের জন্য। আমির খান অভিনীত এই চলচ্চিত্র অস্কারেও মনোনয়ন পেয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের সিনেমা হলেও এর গল্প ও আবেগ দর্শকদের ধরে রাখে শেষ পর্যন্ত।
৪. জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা
বন্ধুত্ব, ভ্রমণ এবং জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কারের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা তরুণ দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। হৃত্বিক রোশন, ফারহান আখতার এবং অভয় দেওল অভিনীত এই চলচ্চিত্রে স্পেন ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিন বন্ধুর জীবনের নানা পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটির গান, সিনেমাটোগ্রাফি এবং জীবন নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
৫. কুইন
নারীকেন্দ্রিক বলিউড সিনেমার তালিকায় এটি অন্যতম সফল একটি চলচ্চিত্র। কঙ্গনা রানৌত অভিনীত এই সিনেমায় এক সাধারণ মেয়ের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ের আগে হবু স্বামী সম্পর্ক ভেঙে দিলে একাই বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সেই ভ্রমণই বদলে দেয় তার জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি। সহজ গল্প, হাস্যরস এবং অনুপ্রেরণামূলক উপস্থাপনার কারণে সিনেমাটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
৬. তেরে নাম
তেরে নাম বলিউডের একটি কালজয়ী রোমান্টিক ট্র্যাজিক চলচ্চিত্র, যা ২০০৩ সালে মুক্তি পায়। পরিচালক সতীশ কৌশিক নির্মিত এই সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান খান এবং ভূমিকা চাওলা। গল্পে দেখা যায়, রাধে মোহন নামের এক রাগী কিন্তু হৃদয়বান যুবকের একতরফা প্রেমের করুণ পরিণতি। কলেজ ছাত্রী নির্জারার সঙ্গে তার সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবেগ, ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডির দিকে এগিয়ে যায়।
মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আজও দর্শকদের কাছে একটি কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়। সিনেমাটির আবেগঘন দৃশ্য, গান এবং গল্প বলার ধরন এটিকে সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকা এক অনন্য সৃষ্টি করে তুলেছে।







