শাহরুখের ছোঁয়ায় মান্নাত যেভাবে হয়ে উঠল মহামূল্যবান সম্পত্তি

সংগৃহীত ছবি
বলিউডের ‘বাদশাহ’ শাহরুখ খান। তার মুম্বাইয়ের বাংলো ‘মান্নাত’ তার মতই জনপ্রিয়। প্রতিদিন হাজারো ভক্ত মুম্বাইয়ের ব্যান্ডস্ট্যান্ডে এসে এই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। উদ্দেশ্য থাকে কেবল এক নজর কিং খানকে দেখা।
সাধারণ একটি বাংলো থেকে মান্নাতের আজ ট্যুরিস্ট স্পট বা ল্যান্ডমার্ক হয়ে ওঠার গল্পটা রূপকথার চেয়ে কম নয়। এবার সেই মান্নাতকে নিয়ে এলো এক চমকপ্রদ খবর। উচ্চতায় আরও বাড়ছে কিং খানের মান্নাত। ছয় তলা মান্নাতের ওপর আরও দুটি নতুন তলা নির্মাণের আইনি সবুজ সংকেত পেয়েছেন শাহরুখ।
বেশ কিছুদিন ধরেই মান্নাতের ওপর অতিরিক্ত দুটি তলা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল খান পরিবার। তবে এই নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে আদালতে একটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। অবশেষে দেশের সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় মান্নাতের ওপর আরও দুই তলা বাড়ানোর পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এই বিশাল সংস্কার কাজের জন্যই গত ২০২৫ সালের এপ্রিলে শাহরুখ তার পরিবারসহ সাময়িকভাবে পালি হিলের ‘পূজা কাসা’ নামের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে শিফট হয়েছিলেন।
মান্নাত কেনার পেছনের গল্পটি দারুণ রোমাঞ্চকর। ১৯৯৭ সালে ‘ইয়েস বস’ ছবির ‘চান্দ তারে’ গানের শুটিং করার সময় এই সমুদ্রমুখী হেরিটেজ বাংলোটি পছন্দ হয়েছিল শাহরুখের। তখন নাম ছিল ভিলা ভিয়েনা। কৌতূহলবশত তখন বাড়ির সামনে গেলে দারোয়ান তাকে তাড়িয়ে দেয়! তখনই বন্ধুদের সাথে মজা করে কিং খান বলেছিলেন, একদিন এই বাড়ি আমি কিনবই।
যেমন কথা তেমন কাজ! ২০০১ সালে গুজরাতি ব্যবসায়ী নরিমান দুবাশের কাছ থেকে মাত্র ১৮ কোটি রুপিতে বাংলোটি কিনে নেন শাহরুখ। শুরুতে এর নাম ‘জান্নাত’ রাখলেও পরে নাম দেন ‘মান্নাত’। যার অর্থ মানত বা পূরণ হওয়া প্রার্থনা। আজ সেই মান্নাতের বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপি!
মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট সংস্কৃতির মাঝে দিল্লির ছেলে শাহরুখের সবসময় স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন বাংলোর। তবে মান্নাত কেনার সেই দিনগুলোর কথা মনে করে শাহরুখ একবার বলেছিলেন, ‘ভীষণ কষ্ট করে এই বাড়ি কিনেছিলাম। মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়েছিল, দেদারসে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। এমনকি টাকা জোগাড় করতে কত ছোটখাটো বিয়েবাড়ি আর শো-তে যে পারফর্ম করেছি, তার হিসাব নেই। মানুষের কাছ থেকে অ্যাডভান্স টাকা নিয়ে, কম পারিশ্রমিকে ৫-৬ বছর একটানা খেটে তবেই এই বাড়ির মালিক হয়েছিলাম।’
বাংলো কেনা হলেও ভেতরের রাজকীয় আসবাবপত্র কেনার মতো টাকা তখন শাহরুখের পকেটে ছিল না। আর তখনই হাল ধরেন স্ত্রী গৌরী খান। মান্নাতকে সাজাতে সাজাতে তিনি নিজেই আজ বলিউডের এক নম্বর সেলিব্রিটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। মিলান, প্যারিস ও লন্ডন ঘুরে ঘুরে ইতালীয় মার্বেল, নিখুঁত ফার্নিচার আর মুরানো গ্লাসের ঝাড়বাতি এনে মান্নাতকে সাজিয়েছেন তিনি।
মান্নাতের ভেতরে রয়েছে এক বিশাল লাইব্রেরি, যেখানে শাহরুখ তার অবসর সময় কাটান। এছাড়া রয়েছে ৪২ আসনের একটি আল্ট্রা-লাক্সারি ব্যক্তিগত সিনেমা হল, যা ভিনটেজ সব পোস্টার দিয়ে সাজানো। আছে বিশ্বমানের জিমনেসিয়াম, ছাদ বাগান এবং সন্তানদের জন্য আধুনিক মিনিমালিস্ট কর্নার।
মান্নাতের নিচ তলাটি ব্যবহৃত হয় অতিথিদের আপ্যায়ন ও সামাজিক কাজের জন্য, আর ওপরের তলাগুলোতে থাকে কঠোর নিরাপত্তা ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন।
এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরও দুই তলা বাড়তে চলায়, বাদশাহর এই ‘মান্নাত’ যে আরও কত বিলাসবহুল রূপ নেবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সবাই।






