অঞ্জলি কুলথের অনুপ্রেরণায় কঙ্গনার ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’

সংগৃহীত ছবি
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর, ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের বুকে নেমে এসেছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও অন্ধকারতম কালো রাত। পাকিস্তানি জঙ্গি আজমল কাসাব আর তার দলবলের নির্বিচার গুলিতে কেঁপে উঠেছিল তাজ হোটেল থেকে শুরু করে সিএসটি রেলওয়ে স্টেশন। কিন্তু সেই রক্তের হোলি খেলার মাঝেও ছমছমে অন্ধকার কামা হাসপাতালে তৈরি হয়েছিল এক মানবিক রূপকথা! নিজের জীবন বাজি রেখে একা হাতে ২০ জন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এক সাহসী নার্স, যার নাম অঞ্জলি কুলথে। ১৮ বছর পর, পর্দার আড়ালে থাকা সেই ‘আনসাং হিরো’র অবিশ্বাস্য বাস্তব গল্প এবার সেলুলয়েডের পর্দায় নিয়ে আসছেন বলিউডের ‘কুইন’ কঙ্গনা রানাউত, তার আগামী সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-তে।
সেদিন রাতে সিএসটি স্টেশনে তাণ্ডব চালিয়ে পুলিশ ও আর্মিকে ফাঁকি দিতে দিতে কামা হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল কাসাব ও আবু ইসমাইল। চারদিকে তখন শুধু গুলির আওয়াজ আর আর্তনাদ। হাসপাতালের মেটারনিটি ওয়ার্ডে তখন ভর্তি প্রায় ২০ জন প্রসববেদনায় ছটফট করা মা। সাধারণ কেউ হলে হয়তো ভয়ে পালিয়ে যেতেন, কিন্তু নার্স অঞ্জলি কুলথে দমে যাননি। তিনি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সব মা এবং তাদের আত্মীয়দের টেনেহিঁচড়ে এনে একটি ছোট্ট স্টোররুমে ঢোকান। ঘরের সব আলো নিভিয়ে, সবাইকে মুখে হাত দিয়ে চুপ করে থাকতে বলেন। বাইরে তখন দরজায় বুলেটের আঘাত আর জঙ্গিদের চিৎকার! টানা কয়েক ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ভোরবেলা সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এই সাহসী নারী।
শুধু হাসপাতালের ভেতরেই নয়, বাইরে এসেও অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দেন অঞ্জলি। হামলা পরবর্তী সরকারি তদন্তে তিনি প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে দাঁড়িয়ে কাসাবকে শনাক্ত করেন এবং হাসপাতালের সেই ভয়ংকর রাতের বিবরণ দেন, যা পরবর্তীকালে কাসাবের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আইনগতভাবে দারুণ সাহায্য করেছিল।
এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’র ট্রেলার, যেখানে নার্সের পোশাকে কঙ্গনা রানাউতের অভিনয় নেটিজেনদের গায়ে কাঁটা দিয়েছে। সিনেমাটি প্রসঙ্গে মেকাররা জানিয়েছেন, ২৬/১১ মানেই আমরা শুধু তাজ হোটেল বা কমান্ডোদের অপারেশন বুঝি। কিন্তু সেই রাতে হাসপাতালের সাধারণ নার্স, ওয়ার্ড বয় আর সুইপাররা যে মানবিক দেয়াল তুলে ধরেছিলেন, এই ছবি তাদের প্রতি এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে যাওয়া এই সাহসী চরিত্রের গল্প কঙ্গনার হাত ধরে সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।






