ফিরছে ‘তেরে নাম’ ও ‘রঙ্গিলা’, বদলাচ্ছে মুখ

সালমান খান ও উর্মিলা
পুরনো নস্টালজিয়া আর নতুন যুগের প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে! যারা ভাবছিলেন বলিউডের সিক্যুয়েল বা ইউনিভার্সের ট্রেন বোধহয় এবার একটু থিতু হবে, তাদের জন্য ইরোস ইনোভেশন নিয়ে এলো মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো প্রজেক্ট। সালমান খানের ‘রাধে’ কিংবা উর্মিলা মাতন্ডকরের সেই আইকনিক ‘রঙ্গিলা’ গার্লের ম্যাজিক আবারও পর্দায় ফিরছে। তবে সিক্যুয়েল আসলেও বদলে যাচ্ছে ছবির চেনা মুখগুলো!
লন্ডন টেক উইকে ইরোস ঘোষণা করেছে তাদের নতুন প্রজেক্ট ‘ইরোস ইউনিভার্স’-এর। যার অধীনে বলিউডের ৬টি কাল্ট ক্লাসিক সিনেমার রিমেক বা নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরি হবে। তালিকায় আছে— তেরে নাম, রঙ্গিলা, ইংলিশ ভিংলিশ, দেশি বয়েজ, ফোবিয়া এবং তনু ওয়েডস মনু ৩।
তবে মেকাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এগুলো সরাসরি সিক্যুয়েল বা আগের গল্পের কন্টিনিউয়েশন নয়, বরং এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল’। অর্থাৎ, গল্প এবং ইউনিভার্স এক থাকলেও বদলে যাবে মূল চরিত্র ও অভিনেতা। ফলে ২০০৩ সালের সেই ভাঙা হৃদয়ের প্রেমিক ‘রাধে’ (সালমান খান) কিংবা ১৯৯৫ সালের সেই গ্ল্যামারাস উর্মিলা মাতন্ডকর এবং আমির খানকে হয়তো আর এই নতুন পার্টে দেখা যাবে না। নতুন কাস্টের কাঁধেই উঠবে এই নস্টালজিক ছবিগুলোর দায়িত্ব।
শুধু পুরনো ছবিই নয়, মার্ভেলের থর কিংবা আয়রনম্যানের মতো ভারতের নিজস্ব পৌরাণিক দেব-দেবী ও বীরদের নিয়ে ইরোস তৈরি করতে যাচ্ছে ‘ইরোস ব্রহ্মাণ্ড’। এটি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি সিনেমাটিক ইউনিভার্স হবে। যেখানে ভারতীয় লোককথা ও পুরাণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ৯টি সিনেমা তৈরি হবে। যার মধ্যে ‘নন্দী – ওয়ার অব কৈলাসা’, ‘দ্বারকা: গেটওয়ে টু দ্য ইউনিভার্স’, ‘মহাভারত ৫০০০ এ.ডি.’ এবং ‘মনসা দেবী’র মতো মেগা প্রজেক্ট রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পুরনো সিনেমার ক্রেজ ফিরিয়ে দিতে ইরোস শুরু করছে ‘ইরোস রিমাস্টার্ড’ প্রজেক্ট। এর প্রথম সিনেমা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সুপারস্টার রজনীকান্তের ভারতের প্রথম মোশন-ক্যাপচার ছবি ‘কোচাদাইয়ান’-কে। আধুনিক প্রযুক্তি ও চমৎকার ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দিয়ে ছবিটিকে একদম নতুনভাবে থিয়েটারে আনা হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ থেকে শুরু করে আগামী কয়েক বছর বড় পর্দা, অ্যানিমেশন এবং ওটিটি দুনিয়া কাঁপাতে পুরো প্রস্তুত ইরোস ইউনিভার্স।







