‘মা হতে পারবেন না’, ১৪ বছরেই শুনেছিলেন শ্রুতি

শ্রুতি হাসান
দক্ষিণী ও বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। ক্যারিয়ারে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবনে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন অন্য মেয়েরা কৈশোর উপভোগ করে, তখন শ্রুতিকে শুনতে হয়েছিল এক রূঢ় সত্য। আর তা হলো তিনি হয়তো জীবনে কখনো মা হতে পারবেন না।
ডিম্বাশয়ের জটিল রোগ পিসিওএসের কারণে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে গর্ভধারণ নিয়ে এই মানসিক চাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী এই তারকা। তবে সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে এসে নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা ও মাতৃত্ব নিয়ে মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।
শ্রুতি জানান, কৈশোরে পিসিওএস শনাক্ত হওয়ার পর ডাক্তাররা একপ্রকার বলেই দিয়েছিলেন যে গর্ভধারণের আশা ছেড়ে দিতে। ফলে বছরের পর বছর ধরে তিনি মনে মনে ধরে নিয়েছিলেন যে মা হওয়া তার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।
তবে সম্প্রতি বিখ্যাত গাইনোকোলজিস্ট ড. ধ্রুপতি দেধিয়ার সঙ্গে পরামর্শের পর তার সেই ভুল ধারণা ভেঙে যায়। শ্রুতি বলেছেন, ‘ডাক্তার আমাকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন যে পিসিওএস মানেই মাতৃত্বের শেষ নয়। তিনি ভয়ের বদলে আশার আলো দেখিয়েছেন এবং বলেছেন, তুমি যখনই প্রস্তুত হবে, আমরা উপায় খুঁজে বের করব।’
৫৩ বছর বয়সে হলিউড তারকা ক্যামেরন ডায়াজের মা হওয়ার উদাহরণ টেনে শ্রুতি বলেন, এখন তিনি বিশ্বাস করেন সঠিক চিকিৎসায় সব সম্ভব।
কেবল জৈবিক উপায়ে সন্তান জন্মদানই নয়, একটি শিশুকে মাতৃত্বের স্নেহ দেওয়ার জন্য দত্তক নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও পুরোপুরি ইতিবাচক শ্রুতি।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার ডাক্তারকে স্পষ্ট বলেছি, আমি শুধু একজন মা হতে চাই। সেটা দত্তক নিয়ে হলেও আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে হ্যাঁ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্যে যদি নিজের রক্তে গড়া সন্তান নেওয়া সম্ভব হয়, তবে সেটাও চেষ্টা করে দেখতে চাই।’
দীর্ঘদিন ধরে পিসিওএসের সঙ্গে লড়াই করা নারীদের জন্য শ্রুতির এই খোলামেলা বার্তা ও ইতিবাচক মানসিকতা এখন সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।




