খাবার দিতে বলেন পরিচালক, রাজি না হওয়ায় মূল চরিত্র থেকে বাদ নায়িকা

প্রীতি সাপ্রু
আশির দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি সাপ্রু সম্প্রতি ‘বলিউড ঠিকানা’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এক অন্ধকার ও নির্মম সত্য সবার সামনে এনেছেন।
বিখ্যাত তারকা ও পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে শুধু অহংকার বা ব্যক্তিগত জিদের বলি হতে হয়েছিল তাকে।
সেটে পরিচালকের নির্দেশমতো খাবার পরিবেশন করতে অস্বীকার করায় বা সামান্য প্রতিবাদের কারণে তাকে রাতারাতি মূল চরিত্র থেকে একেবারে ক্যামিওতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
১৯৮৪ সালের সিনেমা ‘জাগির’-এর শুটিংয়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা মনে করে প্রীতি জানান, সিনেমার পরিচালক প্রমোদ চক্রবর্তী কাজ শেষ করে ক্লান্ত হয়ে সেটে আসার পর তাকে হুকুম দিয়েছিলেন খাবার পরিবেশন করতে।
একজন অভিনেত্রী হয়ে কেন তিনি পরিচালককে খাবার দেবেন, এই প্রশ্ন করায় প্রমোদ চক্রবর্তী তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। শুধু তাই নয়, পরের দিনই ছবির মূল কাস্ট থেকে তার চরিত্রটি কেটে বাদ দিয়ে প্রবীণ অভিনেতা অমরিশ পুরীর পেছনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।
পরিচালক তাকে হুমকি দিয়ে এও বলেছিলেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।
শুধু ‘জাগির’ই নয়, ১৯৮৩ সালের সিনেমা ‘অবতার’-এর সেটে জুনিয়র আর্টিস্টের মতো ব্যবহার করা হয়েছিল প্রীতি সাপ্রুর সঙ্গে এবং তিনি এ আচরণের জোরালো প্রতিবাদ করেছিলেন।
এ ছাড়া ১৯৮১ সালের ‘লাওয়ারিস’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় বাবার মৃত্যুর শোকে মুহ্যমান থাকা সত্ত্বেও পরিচালক প্রকাশ মেহরা তাকে ‘পাগল’ বলে কটূক্তি করেন।
তবে নবাগত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি, বরং প্রকাশ মেহরার মুখে এমন কথা শোনার পর সরাসরি তার সামনে গিয়ে জবাবদিহি চেয়েছিলেন এ অভিনেত্রী।
আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস না করার কারণেই বলি-ইন্ডাস্ট্রিতে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় বলে জানান অভিনেত্রী।




