কেমন হলো কলিযুগের ‘রামায়ণ’?

‘রামায়ণ’ সিনেমায় রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ
‘আদিপুরুষ’ সিনেমার চরম বিপর্যয়ের পর ভারতীয় মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে নতুন কোনো সিনেমা দেখার আগে সাধারণ দর্শকের ভয় হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে প্রযোজক নামিত মালহোত্রা ও পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুপ্রতীক্ষিত মেগা প্রজেক্ট ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ সেই সব সংশয় ও ভয় দূর করে রুপালি পর্দায় তৈরি করেছে এক নতুন ইতিহাস।
রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও রাবণ চরিত্রে সাউথ মেগাস্টার যশের অনবদ্য পারফরম্যান্সে তৈরি এই কলিযুগের ‘রামায়ণ’ বক্স অফিসের পাশাপাশি মন জয় করে নিয়েছে সিনে-সমালোচকদেরও।
পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এই সিনেমাটিকে প্রথাগত পৌরাণিক ছাঁচ থেকে বের করে এনে এক আন্তর্জাতিক মান দিয়েছেন। ‘গেম অব থ্রোনস’ ও ‘লর্ড অব দ্য রিং’-এর মতো বিশাল ক্যানভাস, অমর চিত্র কথা ও রাজা রবি বর্মার নান্দনিক সাজসজ্জা এবং সঙ্গে রামানন্দ সাগরের সেই কালজয়ী অনুভূতির দারুণ এক ফিউশন দেখা গেছে পর্দায়।
বোনাস হিসেবে রয়েছে অস্কারজয়ী জুটি হ্যান্স জিমার এবং এ আর রহমানের যৌথ আবহ সংগীত, যা থিয়েটারে উপস্থিত দর্শকদের গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।
সিনেমার প্রথমার্ধে অযোধ্যার রাজকীয় পরিবেশ ও চরিত্রগুলোর মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও, আরণ্য কাণ্ডে রাম-সীতা-লক্ষণের বনবাসের পর থেকেই আসল জমজমাট খেলা শুরু হয়।
রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর শুরুতে কিছুটা শান্ত থাকলেও বনবাসের ফাইট সিকোয়েন্সে গাছে গাছে লাফিয়ে ধনুক হাতে যেভাবে রাক্ষস বধ করেছেন, তা সিনেমাটির অন্যতম সেরা দৃশ্য বলছেন দর্শকরা।
অন্যদিকে সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী তার স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত অভিনয়ে মন জয় করেছেন, বিশেষ করে রাবণরূপী যশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লক্ষ্মণরেখা পার হওয়ার দৃশ্যটিতে তাদের পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো।
রিভিউতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছে তা হলো কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্রতা ছাড়া মূল গল্পের ভক্তি ও আবেগ ধরে রাখা। তীব্র বা আক্রমণাত্মক স্লোগানের বদলে সিনেমার মেজাজে প্রাধান্য পেয়েছে শান্ত ও মধুর ‘জয় সিয়া রাম’-এর ধ্বনি।
অরুণ গোভিল, লারা দত্ত, সানি দেওল ও রবি দুবের মতো একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে ৩ স্টার পাওয়া এই সিনেমাটি সব বয়সের দর্শকের জন্য এক অনবদ্য সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা। প্রথম পর্বের এই বিশাল সাফল্যের পর এখন দেখার বিষয় আগামী দীপাবলিতে আসা এর দ্বিতীয় পর্ব কীভাবে বক্স অফিসে ঝড় তোলে।




