রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
আসল বই আসার আগেই বাজারে একাদশের নকল বই

ছবি: আগামীর সময়
সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এই শ্রেণির বই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদন ও সরকারকে রয়্যালিটি দিয়ে ছাপানো নির্দিষ্ট প্রকাশনীর কাছ থেকে কিনতে হয় শিক্ষার্থীদের। এরই মধ্যে এনসিটিবি অনুমোদিত পাঠ্যবইয়ের তালিকা দেশের লাইব্রেরিগুলোতে পাঠিয়েছে বৈধ প্রকাশনাগুলো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে আসল বই পৌঁছানোর আগেই বাজার ছেয়ে গেছে প্রতারক চক্রের ছাপানো নকল বইয়ে। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীরা নকল বই কিনে প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।
এনসিটিবি থেকে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেনামি ছাপাখানার মাধ্যমে অবৈধভাবে এনসিটিবির অনুমোদিত বই প্রস্তুত করে বাজারজাত করে আসছে।
গোপন ছাপাখানায় অভিযান ও হামলার ঘটনা
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচর গুদারাঘাটসংলগ্ন 'পানির ফ্যাক্টরির গলি'র একটি নামবিহীন ছাপাখানায় এনসিটিবির অনুমোদিত বই গোপনে ছাপা ও বাঁধাই করার তথ্য পাওয়া যায়। ছাপাখানাটির মালিক মানিক মিয়া। অবৈধভাবে নকল বই ছাপানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
তথ্য পেয়ে হাজারীবাগ থানার এসআই আশরাফ এবং বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হন। তারা সরেজমিন দেখতে পান, এনসিটিবি অনুমোদিত সিলেবাসের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকের বিপুল পরিমাণ ফর্মা ও কাভার বাঁধাইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অক্ষরপত্র প্রকাশনীর 'বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি' এবং হাসান বুক হাউজের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই।
বই ছাপানোর অনুমতি দেখতে চাইলে পুলিশ ও প্রকাশকদের ওপর হামলা চালায় তারা। এর মধ্যে পুলিশ অবৈধ বই জব্দ তালিকা করতে গেলে ফয়সাল ও মাসুদ রানার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল লোক ফের তাণ্ডব শুরু করে। তারা পুলিশ ও প্রকাশকদের গালিগালাজ করে ও মারমুখী আচরণ দেখায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা বই জব্দে বাধা দেয় এবং হাসান বুক হাউজের দুই প্রতিনিধির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাদের তীব্র বাধা ও হামলার মুখে পুলিশ কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
এলসিটিবি এবং প্রকাশকরা জানিয়েছে, ফয়সাল ও মাসুদ রানা বিগত সরকারের আমলেও একই ধরনের নকল বই তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে তারা নিজেদের এ সরকারের সমর্থিত কর্মী হিসেবে জাহির করে নতুন এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা এই ব্যবসা অবৈধভাবে নয়, বৈধভাবেই করছি মন্তব্য করেন। ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
হাজারীবাগ থানার এসআই আশরাফ বলেন, অবৈধভাবে বই ছাপানোর প্রেসে অভিযান চালাতে গিয়ে আমি ও আরও কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং এনসিটিবিকে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালের কপিরাইট আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকর ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত ও বৈধ প্রকাশকরা, যারা নিয়মিত সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
একাদশ শ্রেণির অধিকাংশ বই এনসিটিবি ১২% রয়্যালিটি নিয়ে নির্দিষ্ট প্রকাশনীর মাধ্যমে বাজারজাত করে থাকে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব পায়। কিন্তু এসব বই অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি হলে সরকার এখানে রয়্যালিটি হারাচ্ছে।




