রাশিয়ার আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে প্রতিনিধিত্ব করবেন সোহেল
- পেলেন রুশ সরকারের দুটি আমন্ত্রণপত্র

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অফিসিয়াল আদেশ (ডিক্রি) অনুযায়ী আয়োজিত একটি শীর্ষপর্যায়ের অফিসিয়াল ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথে প্রতিনিধি হিসেবে দুটি রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোহেল হোসাইন। বর্তমানে তিনি চীনের উহান ইউনিভার্সিটিতে ট্রান্সলেশন স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত।
আন্তর্জাতিক যুব ফ্রন্ট শক্তিশালী করতে এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই উৎসব আয়োজন করছে রুশ সরকার। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেট এবং রসমোলোদেজ। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে ৫ হাজার রুশ ও বিভিন্ন দেশের ৫ হাজার তরুণ, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সৃজনশীল শিল্পী, সংস্কৃতিপ্রেমী, গণমাধ্যমকর্মী, আইটি ও ডিজিটাল খাতের পেশাজীবী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তরুণদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে আগামীর সময়কে সোহেল বলেন, ‘রাশিয়ার মতো বিশাল একটি দেশে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমি সেখানে বাংলাদেশে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সম্ভাবনা এবং রাশিয়াতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করব।’
সোহেল জানান, যেহেতু এটি একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন, তাই রুশ সরকার আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি ভিসা দিয়েছে। সঙ্গে যাতায়াতের বিমান টিকিট, স্থানীয় পর্যায়ের সকল ভ্রমণ খরচ, ১২ দিনের আবাসন ও খাবারের সম্পূর্ণ ব্যয় রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে বহন করা হবে।
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে মূল প্রোগ্রামটি হবে আগামী ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। সোহেল যাচ্ছেন ইয়েকাতেরিনবুর্গে, যা উড়াল পর্বতমালার কেন্দ্রীয় অঞ্চল। আঞ্চলিক পর্যায়ে আরেকটি প্রোগ্রাম হবে ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণপশ্চিম ইউরোপীয় অঞ্চল রিপাবলিক অব কালমিকিয়াতে। এখানেও বিশেষভাবে মনোনীত হয়েছেন সোহেল।
আঞ্চলিক প্রোগ্রামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল উৎসবের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রোগ্রামে স্থান পাওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। কারণ এই সুযোগটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। আমার চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণেই মূলত এতে নির্বাচিত হয়েছি। আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রোগ্রামটির উদ্দেশ্যও তাদের আঞ্চলিক সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সেখানে আমাদের দেখানো হবে ইউরোপের একমাত্র বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল কালমিকিয়ার যাযাবর সংস্কৃতি, তাদের ঐতিহ্যবাহী থ্রোট সিংগিং, স্থানীয় খাবার, পোশাক ও জীবনযাত্রা। সুযোগ হবে উটের পিঠে চড়া, তীরন্দাজি, বিস্তর তৃণভূমির মাঝে ক্যাম্পিং ও বিখ্যাত জোম্বা চা পানের। এসব রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা আমাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।’
সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, মিডিয়া ও সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তরুণদের বৈশ্বিক পদচারণা বৃদ্ধি এবং একটি বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক যুব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।






