গণপূর্তের সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে নিলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার মাঠে অবস্থান নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। এ সময় মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেন এবং নমুনা সংগ্রহে ব্যবহৃত দুটি গাড়িও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে আসেন।
একই সঙ্গে প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান, আইনি লড়াই শুরু এবং মাঠ হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গণজমায়েত করেন। এ সময় তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচি শেষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ডটি ভেঙে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনও গণপূর্তের অধীনে!’ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে তারা এ স্লোগান দেন বলে জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, ‘আজ আমরা মাঠে চলমান সয়েল টেস্টের স্যাম্পল নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি। প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনারা কতটা নির্জীবতা দেখাচ্ছেন যে, চোখের সামনে থেকে আপনাদের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ আপনাদের কোনো হেলদোল নেই! আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন।
বাণিজ্য মেলার মাঠ-সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত বারবার জানানোর পরও সে অনুযায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বাণিজ্য মেলার মাঠ-সংক্রান্ত আমাদের একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি আমাদের রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করব। আজকের বা আগামীকালের মধ্যেই আমরা তাদের সঙ্গে বসব এবং যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে।’
এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন মাঠটি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেন তারা।



