শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
‘শ্রমজীবী জনতার সঙ্গে একাত্ম হও, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় হামলায় শহীদ তৌফিক হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে অংশ নেন তারা।
সমাবেশে ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু বলেছেন, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সেই শ্রমজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। শ্রমিক তৌফিক শেখও তাদের একজন। বাবার মৃত্যুর পর পড়াশোনার খরচ বহন করতে না পেরে তিনি গাজীপুরে চাকরি নেন। তাই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পাশে দাঁড়ানো ছাত্রসংগঠন হিসেবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
‘শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে। ছাত্র ও শ্রমিক একে অপরের প্রতিপক্ষ নন। বরং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ছাত্র-শ্রমিকের ঐক্যের মধ্য দিয়েই শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা দূর করতে হবে’যোগ করেন ইসরাত।
ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি পূরণ হচ্ছে না। ২০২৪ সালের শ্রমিক আন্দোলনের পর মালিক, সরকার ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে ১৮ দফা চুক্তি হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
‘শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কারখানাগুলোয় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া; কিংবা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে ছাঁটাইয়ের শিকার হন। ফলে তাদের চাকরির নিরাপত্তাও নিশ্চিত হচ্ছে না’— উল্লেখ করেন জাহিদুল ইসলাম।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, ২০২৪ সালের ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিশ্চয়তা এবং চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচার দাবি জানানো হয়।




