সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দাবিতে ঢাবি ভিসিকে স্মারকলিপি

তিন দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা
সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে তিন দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বিকেলে উপাচার্যের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এসময় ডাকসু, বিভিন্ন হল সংসদের নারী নেতৃরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে।
শিক্ষার্থীদের তিন দাবির মধ্যে রয়েছে—বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য সব ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, হলের মূল ফটকে সময়সীমা ও বের হওয়ার জটিল নিয়ম শিথিল করা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা, বোনসহ নারী অভিভাবকদের সহজ প্রক্রিয়ায় হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক নিয়ম চাপিয়ে রাখা হয়েছে। সামান্য দেরি হলেও হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে হল ত্যাগ করতেও দীর্ঘ অনুমতি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের বাবা মারা গেলেও আবেদন লিখে অনুমতি নিয়ে বের হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ হলেও অনুমতি পেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা এই অমানবিক নিয়মের পরিবর্তন চাই।’
২৪ ঘণ্টা হলের গেট খোলা রাখার দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষার্থী বলেছেন, এটি এখন তাদের প্রধান দাবি নয়। আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাস ও হলসংলগ্ন এলাকায় ভবঘুরে, নেশাগ্রস্ত ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে নারী শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল তিন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন। তাদের দাবিগুলো হলো, ১. প্রচলিত সান্ধ্য আইন (কারফিউ) বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে।
২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রি যাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যেকোনো ছাত্রীর পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।





