জাবিতে ভেলা বাইচ, পুরস্কার রাজহাঁস মুরগি কবুতর

ছবিঃ আগামীর সময়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পুরোনো কলাভবন সংলগ্ন ‘রঙ পুকুরে’ আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী এই ভেলা বাইচ। আয়োজনে ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
উদ্বোদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা।
‘প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এই আয়োজনে কলাগাছ দিয়ে তৈরি ১১টি ভেলায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হলের ২২ শিক্ষার্থী’, জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ক্লাস বাদ দিয়ে ভেলা বাইচ দেখতে এসেছিলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান (২২)। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ দিলেন জাকসুকেও।
‘প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন। ক্লাস বাদ দিয়ে কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে এসেছি। সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এই ভেলা বাইচ’— বললেন হাসানুজ্জামান।
সাভারের রেডিওকলোনি থেকে সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন হীরা খাতুন (৩২)। ‘এমন প্রতিযোগিতা সচরাচর দেখা যায় না। তাই ছেলে মেয়েসহ আজ এসেছি। ওরা অনেক উপভোগ করেছে।’
ভেলা বাইচের পুরস্কারও ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। প্রথম স্থান অধিকারীদের একটি রাজহাঁস ও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের দেশি মুরগি ও এক জোড়া কবুতর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় শহীদ সালাম বরকত হল। দ্বিতীয় হয় নবাব সলিমুল্লাহ হল, তাদের সময় লাগে ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ড এবং তৃতীয় হওয়া আ ফ ম কামালউদ্দিন হল নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে।
‘প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ভেলা বাইচে প্রথম হলাম। এটা খুবই আনন্দের ও গর্বের। জাকসুকে এমন সুন্দর আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ’, বলছিলেন ভেলা বাইচে শহীদ সালাম বরকত হলের প্রতিনিধিত্বকারী আল মামুন।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী জান্নাত। অনুভূতি জানিয়ে বললেন, জাবি ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো ভেলা বাইচ হওয়ার কারণে প্রচুর আগ্রহ নিয়ে বাইচ খেলতে গেছি। জাকসুকে ধন্যবাদ দিতেই হবে এরকম ইউনিক আয়োজন করার জন্য। তা ছাড়া আমার হলকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আনতে পারায় আরও ভালো লাগছে।
ভেলা আয়োজন নিয়ে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ জানালেন, ‘এটি ১১ নম্বর প্রোগ্রাম। চেষ্টা থাকে সব কাজে ভ্যারিয়েশন রাখার। সেই কারণে আজকের এই আয়োজন। আয়োজনটি সফলভাবে শেষ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’
‘ভেলাগুলো এখানেই তৈরি করা হয়েছে জাকসুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে। ভেলা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ভাইয়েরা সাহায্য করেছেন’—যোগ করেন তিনি।
এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জাকসুকে। ভবিষ্যতেও এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত রাখুক এমন প্রত্যাশার কথা জানালেন জাবি ভিসি কামরুল।
















