পাবিপ্রবিতে ফল উৎসব

ছবি: আগামীর সময়
দেশীয় ১৬ প্রজাতির মৌসুমি ফল নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) মৌসুমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের আয়োজন করে পাবিপ্রবি প্রেসক্লাব।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন হলে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিম এবং সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিকাইল হোসাইন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত শামীম তার বক্তব্যের শুরুতে একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেন। তিনি বললেন, ‘তুমি বলো তুমি কী খাও, তাহলে আমি বলে দেব তুমি কেমন মানুষ।’
উপাচার্য বললেন, ‘একজন মানুষের সুস্বাস্থ্য অনেকাংশেই তার খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের মাধ্যমে আমরা কত কিলোক্যালরি, কতটুকু প্রোটিন এবং কতটুকু পুষ্টি গ্রহণ করছি, সে বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।’
‘দেশের মৌসুমি ফল সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশীয় ফল শুধু পুষ্টির উৎসই নয়, বরং সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’—যোগ করেন তিনি।
উপ-উপাচার্য নজরুল ইসলাম বললেন, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ফ্রুটস ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে একদিকে যেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফলের একটি বড় অংশ অপচয় হচ্ছে। তাই ফল উৎপাদনের পাশাপাশি এর সুষ্ঠু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অপচয় রোধের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
‘বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে কলা, টমেটো, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ফল অপচয় হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সংকট।’—জানালেন তিনি।
প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিম বললেন, ‘বাংলাদেশের দেশীয় মৌসুমি ফল শুধু আমাদের ঐতিহ্যের অংশ নয়, এগুলো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও জনসচেতনতামূলক এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’




