চবিতে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী জাতীয় মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় নিলস্-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি
দেশের ৬০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০-এর অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় নিলস্-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি (এনএমএলএ) ২০২৬।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের এ কে খান অডিটোরিয়ামে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হয়।
দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস্) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট বাংলাদেশ (এলইবি) যৌথভাবে ২৮ ও ২৯ আগস্ট এর আয়োজন করে। আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ, আইনগত বিশ্লেষণ, সংসদীয় বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক আগামীর সময়।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে আইনগত বিশ্লেষণ, নীতিপত্র প্রণয়ন, সংশোধনী প্রস্তাব, বিতর্ক ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
হাউস-১-এ সেরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন যশোর-২, সেরা সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিনাজপুর-৬, সেরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নোয়াখালী-৬, সেরা নীতিপত্র পুরস্কার পেয়েছে নাটোর-৩ এবং সেরা সংশোধনী প্রস্তাব পুরস্কার পেয়েছে রংপুর-৬।
হাউস-২-এ সেরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পটুয়াখালী-৩, সেরা সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিনাজপুর-৬, সেরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বাগেরহাট-২, সেরা নীতিপত্র পুরস্কার পেয়েছে ময়মনসিংহ-৫ এবং সেরা সংশোধনী প্রস্তাব পুরস্কার পেয়েছে ঢাকা-৮।
হাউস-৩-এ সেরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী-৬, সেরা সরকারি দলের সংসদ সদস্য পাবনা-১, সেরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নড়াইল-২, সেরা নীতিপত্র পুরস্কার পেয়েছে মুন্সিগঞ্জ-২।
এ ছাড়া হাউস-৩-এর সানজিদা আলম সেরা পর্যবেক্ষক এবং ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল তাজরিন তাহরিয়া সেরা ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের এ কে খান অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাফর আহমেদ।
বিচারপতি জাফর আহমেদ বললেন, ‘অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ বেশি জরুরি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সঠিক প্রস্তুতি, আইন সম্পর্কে জ্ঞান ও পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারক অনেকাংশে আইনজীবীদের উপস্থাপনার ওপর নির্ভর করেন। মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অনেক সময় শক্তিশালী পক্ষের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন।’
সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বললেন, ‘কীভাবে মানব পাচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যায় এই বিষয়গুলো আইনের মাধ্যমে আরও স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। আজকের ছায়া সংসদ এর প্রতিনিধিরা আগামী দিনের পার্লামেন্টারিয়ান।’
আয়োজনের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীরা তিনটি পৃথক হাউসে নির্ধারিত আইনের বিভিন্ন আইনগত জটিলতা, আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও খসড়া প্রণয়ন নিয়ে বিস্তারিত বিতর্ক ও আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আগে একটি করে খসড়া প্রস্তাব জমা নেওয়া হয়। সেখান থেকে ২০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে অন্যান্য সদস্যরা আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি, মতামত ও সংশোধনী প্রস্তাব তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত বিষয়গুলোর ওপর দলভিত্তিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থাপনা শেষে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় বিতর্ক, সমালোচনামূলক পর্যালোচনা ও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে সংশোধিত খসড়া বিলের ওপর ভোট প্রদান এবং বিল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনের এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ, বিতর্ক এবং সমসাময়িক আইন ও সুশাসনবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মাধ্যমে তারা বাস্তবভিত্তিক আইনসভা কার্যক্রম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।








